পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৯৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাজলবাবু তখনও হাসছে। সাবিত্রী সরে এল। সুলেখা বলে চলেছে-এ সব অন্যায়। কাজলবাবু বলে—তোমাকেও বলি সুলেখা, হঠাৎ ওই মেয়েটাকে গড়ে তোলার জন্য এত চেষ্টা কেন ? সুলেখা হাসল। ও কি জবাব দিল শুনতে পায় নি। সাবিত্রী। তবে কাজলবাবু তাকে শুনিয়েই এইসব কথা বলেছে আজ ইচ্ছে করে। সাবিত্রী সরে এল। চোখের জল সে ফেলবে না। মনে হয়। চারিদিকে তার কঠিন একটা জগৎ, তারই তাই সে সুরের নিভৃত আলাপে নিজেকে হারিয়ে ফেলে পরম তৃপ্তিকে খুঁজতে b58 | আজ সুলেখাদির ওই স্কুল ছাড়ার কথায় সাবিত্রী খুবই খুশী হয়েছে। সেও ওই ‘বি’ –এর পরিচয়টাকে এড়াতে চায়। তাছাড়া কাজলবাবুর সান্নিধ্য এড়িয়ে সে আপন মনে সাধনা করতে পারবে। একদিন ওই মানুষটিকে সবচেয়ে বেশী ভালোবেসেছিল তার কুমারী মন, আজ সাবিত্রী কঠিন বাস্তবের সংঘাতে এসে অনেক অভিজ্ঞতালব্ধ মন দিয়ে বিচার করে দেখেছে-সে অপাত্রেই তার ভালোবাসা সমপণ করেছিল। তাই ব্যর্থ হয়েছে সে। কোথাও তার জন্য কোনো সাস্তুনা নেই। সাবিত্রী সুলেখাদির কথায় বলে। —তুমি যখন বলছে যাবো না। ওখানে। স্কুলের চাকরী ছেড়ে দিলাম। —-সেই-ই ভালো। বরং সেই সময় ওই সব করো। আর সামনের সপ্তাহে গ্রামোফোন কোম্পানীর একজন ট্রেনারের সঙ্গে কথা বলে আসবে; যদি ওঁরা পছন্দ করেন একটা ডিস্ক করতে হবে। সাবিত্রী যেন স্বপ্ন দেখছে। ধাপে ধাপে উঠছে সে। উজ্জ্বল আলোেভরা নীল আকাশের স্বপ্ন জাগে তার মনে। ওর সুরেও সেই তৃপ্তির প্রকাশ ফুটে ওঠে। --মন মোর মেঘের সঙ্গী! আমি শুধু একা-SumitaBot (আলাপ)৭ Տ Գ