পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৯৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাজলবাবুকে এখানে দেখবে এই সময় ভাবতে পারে নি। সাবিত্রী। কাজলবাবুও ওকে দেখছে। সাবিত্রীর মুখেচোখে কি কাঠিন্য ফুটে উঠেছে। সাবিত্রী জানায় স্থির কঠে। --সুলেখাদি এখন বাড়িতে নেই, ফিরতে বৈকাল হবে। তখন আসবেন। কাজল একটা সিগ্রেট ধরিয়ে দেশলাই কাঠির আগুনটাকে দেখছে। পরে সেটাকে ফু দিয়ে নিভিয়ে এ্যাসট্রেতে রেখে, সিগ্রেটে একটা দীর্ঘ টান দিয়ে বলে-আমি জানি। তাই এসেছি। এখানে। —আমার সঙ্গে কোন দরকার নেই। আপনার । সাবিত্রী ওকে দেখছে। কাজলবাবু যেন তার মুখোমুখি হয়েছে। ইচ্ছে করেই। সাবিত্রীও বুঝেছে তার বিন্দুমাত্র দুর্বলতা এখানে বিপদ ডেকে আনবে, আর আজ সাবিত্রী অনেক কষ্ট অনেক ত্যাগ স্বীকার করে এখানে এসে পৌচেছে, আরও উপরে উঠবে সে । যতই উপরে উঠবে প্রতিষ্ঠিত হবে কাজলবাবুর মনে হবে সে হেরে গেছে। সব থেকে বেশী। ততই মরীয়া হয়ে উঠবে সে। তাই সাবিত্রী সব জেনেই ওর দিকে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। সে হার মানবে না। তাই সাবিত্রী জানায়—আমার কাজ আছে। আপনি এখন আসুন। কাজল ওকে দেখছে। সেদিনের মেয়েটির সারা দেহে আজ রূপের জোয়ার। সাবিত্রী ভিতরে চলে যাচ্ছে, কাজলবাবুর ডাকে থামল-দাড়াও। সুলেখার দয়া-মায়া কুড়িয়ে বেশ আছো দেখছি। হালচল বদলে গেছে, এখন নাম করছে গান গেয়ে। সাবিত্ৰী জবাব দেয় কঠিন স্বরে। —বস্তির সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের দয়া কুড়িয়ে আজ যদি বড় শিল্পী হওয়া যায়, সুলেখাদির দয়ায় আমিই বা হবো না কেন ? অন্যায় তো করি নি। কাজলবাবু ওর কথায় চমকে ওঠে। ওকে ওর অতীত নিয়েই কথাটা বলেছে। সাবিত্রীও দেখছে তাকে। সে ঠিক ওরা দুর্বলতম জায়গাতেই আঘাত হেনেছে। তাই আরও জোরের সঙ্গে জানায় সাবিত্রী এতদিনের পুঞ্জীভূত অভিযোগটা। —কিন্তু সেই নামী মানুযটা তার পিছনের পরিচয় ভুলে গিয়ে বিষ-ছোবল দিতে পারে সাপের মত, কিন্তু আমি সেটা ভুলি নি। আমার কৃতজ্ঞতার ঋণ কোনদিনই છે જે