পাতা:আমেরিকার নিগ্রো - রামনাথ বিশ্বাস.pdf/৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৭৮ আমেরিকার নিগ্রো মনস্থ করেছিল, সেজন্য তাদের একটিভিটি বেড়ে গিয়েছিল। নিগ্রোরা, অর্ধ-নিগ্রো ট্রটঙ্কী পন্থীদের ঘৃণার চক্ষে দেখতে আরম্ভ করেছিল, কিন্তু বর্ডার লাইনার নিগ্রোরা এসব ভাল-মন্দ হতে নির্লিপ্ত থাকত। এরা হল পেটিবুরজোয়া শ্রেণীর লােক। দরকার হলে মজুরদের সংগে মিশে মজুর ক্ষেপায় এবং কার্যসিদ্ধি হলেই ধনীদের দলে: যােগ দেয়। বর্ডার লাইনারও সেরূপ। এরা থাকে নিগ্রোদের সংগে, নিগ্রোদের অনেক সময় ক্ষেপিয়ে লিঞ্চ করায় এবং সুযােগ পেলেই শ্বেতকায়দের সংগে মিশে যায়। উইলী সে দলের লোক ছিল না। আঘাত পেয়েছিল এবং শিক্ষিত সমাজের সংস্পর্শে আসার পর কিছুটা আত্মসম্মান জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। উইলী এবং এন্তনী ম্যাকের ঘরের দরজায় টোকা দিল। ম্যাকের মা দরজা খুলে দিলেন। ম্যাক তখন ঘুমাচ্ছিল। কি সুন্দর তার মুখটা। যে কোন যুবতী এমন মুখের চুমু খেতে চাইবে নিশ্চয়ই। চারটা কেরােসিন বাক্স একত্রিত করে তার উপর খড়ের গাদা বিছানো ছিল। বালিস ছিল না। গায়ে মাত্র একখানা কম্বল তাও স্থানে স্থানে ফুটে।। কয়েকটা মাছি মোমবাতিটার চারিদিকে ভন্ ভন্ করছিল। রুমটার এক পাশে একটা উনুন। উনটাতে কয়েকটা রাঙ্গা আলু সিদ্ধ করা হচ্ছিল। উনুনের পাশের চেয়ারটাতে ম্যাকের কোট শুকোতে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ম্যাকের মা শুয়েছিলেন। উইলী ঘরের অবস্থা দেখেই বুঝতে পেরেছিল এরা কত কষ্টে আছে। সাহস করে ম্যাকের মাকে এতনী জিজ্ঞাসা করল, “মা, কেমন আছেন ?” ম্যাকের মা চোখ বুজেই বললেন, “বয়স হয়েছে, শরীর চলে না, তবুও চলতে হয়, রােগ ত লেগেই আছে, মরতে পারলেই বাঁচি।