প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:আর্য্যদর্শন - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৪৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


r l | মাঘ ১২৮২ | কবিত্ব ও কাব্য সমালোচনা। -* 88 × | তাহার অপনোদন করিবে, এবং দুঃখ ভারে বিকৃত মন ক্ষত্ত্বিবিহনে যে সংসারে কোন কাৰ্য্যকারী হইবে না, ও শারীরিক ও মানসিক-রোগ-করীও হইতে পারে, এবং এরূপ দুঃখের পেমঃপুনে মন দুঃখ বিষয়ে অসাড় হইয়া যাইতে পারে, এই সকল ভাবিয়াই হয়ত র্তাহারা উপাখ্যান দু:খে পরিশেষিক্ট করিতে নিষেধ বিধি করিয়াছিলেন । - মানব অন্তরে দুঃখ এবং ঘোর বিষয় দেখিবার একটি প্রবৃত্তি আছে, কবি তাহা বুঝিয় তাহারি অনুরূপ সামগ্ৰী রচনা করিয়া থাকেন। অনেকে প্রশ্ন করিয়া থাকেন, দুঃখ এবং ঘোর বিষয়ের | নিমিত্ত মানবের প্রবৃত্ত জন্মে কেন? ইহার অনেকে অনেক প্রকার উত্তর দিয়াথাকেন। কেহ কহেন, আমাদের এই অপেক্ষাকৃত মুখময় ও সুস্থির জীবনের সহিত, কোন দৈব পীড়িত জীবনের দুর্দশার তুলনায় ইহাকে যে মুখময় ও স্বস্থির বলিয়া বোধ হয়, তন্নিমিত্তই আমাদের দুঃখ ও দুর্দশ দেখিবার প্রবৃত্তি জন্মে। শ্লেগেল (Schlegel) সাহেব ইহার এই উত্তর দেন, যে যখন আমরা কোন দু:খান্ত উপাখ্যানের পাত্রের প্রতি গাঢ় অনুরক্ত হই,তখন আমরা আত্মত্ব ভুলিয়া যাই,এবং কি ? এবং যদি আমরা পাত্রের দুঃখে দুঃখী না হই, তবে ইহা স্বীকার্য যে উপাখ্যান তাহার উদ্দেশ্য সাধনে কৃত পাত্রের দুঃখে দুঃখী হইয়া পড়ি, সুতরাং অৱস্থার তুলনায় স্থথোৎপত্তির সম্ভাবনা | কাৰ্য্য হইতে পারিল না। অপরের কহেন, যে কাব্যে পাপী ব্যক্তির শাস্তি ও ধাৰ্ম্মিকের পুরস্কার দেখিয়া আমরা নৈতিক উন্নতি লাভ করি, *João (Aristotle) কহেন যে দুঃথান্ত উপাখ্যানের তাৎপৰ্য্য এই, যে,উহা দ্বারা আমাদের অন্তঃকরণকে দু:খে দুঃখী এবং ভয়ে ভীত করিয়া, আমাদের হৃৎবৃত্তি সকলকে পরিমাজ্জিত করে ; এইরূপ নানা জনের নানা মত। কিন্তু উক্তরূপ নৈতিক উন্নতিলাভও কাব্যের উদ্দেশ্য নয়, যেহেতু উৎকৃষ্ট কাব্যেও আমরা পাপের স্পৰ্দ্ধা, এবং ধৰ্ম্মের অবনতি দেখিয়াছি ; এবং দংবৃত্তির পরিমার্জন ও তাহার উদ্দেশ্য নয়, যেহেতু কাব্যে হৃদ বৃত্তিকে মলিন করি বার উপাদানও থাকে। অপর সম্প্রদায় কহেন যে আমাদের মন সংসারের নিত্য কৰ্ম্মে অলস ও অসাড় হইয়া পড়িলে, আমরা প্রবল উত্তেজনা ও অন্তরাবেগের কাৰ্য্য সকল দেখিবার নিমিত্ত রঙ্গভূমে atạž zë I atstā (Schlegel) কহেন, এরূপ প্রয়োজন আমাদিগের অন্তকরণে উপলব্ধি হইয়া থাকে বটে, কিন্তু তাহা দেখিবার নিমিত্ত কাব্য দর্শনের পৃহা কেন, উহাত, প্রাচীন রোমকেরা যেমন পশুযুদ্ধ দেখিতেন তদ্রুপ পশুযুদ্ধ দর্শনেও পরিতৃপ্ত হইতে পারে। দুঃখময় ঘোর দৃশ্য সকল দেখিবার প্রবৃত্ত্বি মানব অন্তরে উদ্ভূত হয় কেন, এই প্রশ্ন সম্বন্ধে শ্লেগেল নিজের এই মত ব্যক্ত করেন, যে, অভিভূতকারী দুঃখো