পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (চতুর্থ বর্ষ).pdf/২৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


KSbr. ? আৰ্য্যাবৰ্ত্ত।। ৪র্থ বর্ষ-৩য় সংখ্যা । তাহাকে পাঁচ শত টাকা ধার দেয়। অথচ টাকা কয়েক দিনের মধ্যেই চাহি। ২রা আষাঢ় কন্যার বিবাহ। আর মাত্ৰ পাচ দিন বাকী আছে। ধীর ভাবে সমস্ত শুনিয়া নরেশচন্দ্ৰ নিৰ্বিকারভাবে বলিলেন, “টাকা পা’ব কোথায়, মশায় ? আমি ত টাকার গাছ নাহি । আর থাকিলেও ধার দেওয়াটা আমার মতের বিরুদ্ধ। সুতরাং মাপ করিবেন। ” দরিদ্র, কন্যাদায়গ্ৰস্ত বৃদ্ধ কৃতাঞ্জলিপুটে বলিলেন, “আপনি মহৎ বংশের সন্তান, স্বয়ং মহাশয় ব্যক্তি ; আপনি দয়া না করিলে আমার জাতি যাইবে । অতি কষ্টে পাঁচ শত টাকা সংগ্ৰহ করিয়াছি ; আর পাঁচ শত হইলে, কোনরূপে কন্যাটিকে পাত্ৰস্থ করিতে পারি। আমার দেশের বাড়ী বন্ধক রাখিয়া আমাকে এ কন্যাবিপদ হইতে উদ্ধার করুন।” বৃদ্ধের নয়ন অশ্রুসিক্ত হইল। অব্যক্ত বেদনার যন্ত্রণা ও নৈরাশ্যের ছায়া র্তাহার মুখমণ্ডলে পরিস্ফুট হইয়া উঠিল। কিন্তু নরেশচন্দ্রের পাষাণ হৃদয় কিছুমাত্র বিচলিত হইল না। তিনি নিতান্ত নিৰ্ম্মমের ন্যায় বলিলেন, “কেন অনর্থক কষ্ট করিতেছেন। আমি আমার মতের বিরুদ্ধে কখনও কোন কাব্য করি না। যাহা আমি ভালবাসি না এমন কাব্য জীবনে কখনও করিব না। এ বিষয়ে অনুগ্রহপূর্বক আর আলোচনা না করিলে সুখী হইব।” ঘোষ মহাশয় নতনেত্ৰে সব কথা শুনিলেন। গভীর দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিয়া একবার উৰ্দ্ধপানে চাহিলেন। নীল শূন্যে কোথাও আশার আলোক-রেখা উজ্জ্বল হইয়া উঠিয়াছিল কি ? কয়েক মুহুৰ্ত্ত নিস্তব্ধতার পর নরেশচন্দ্ৰ মৃদু স্বরে বলিলেন, “আপনার কন্যাটি দেখিতে কেমন ?” ভগ্নস্বরে ঘোষ মহাশয় বলিলেন, “দরিদ্রের কন্যা রূপের ডালি হইলেও কি লোক তাহা দেখে, নরেশ বাবু ? অবস্থার অনুপাতেই লোক রূপ ও গুণের বিচার করে। আমি অতি দরিদ্র, আমার কন্যা ধনীর দৃষ্টিতে সুন্দর দেখাইবে কি না জানি না ।” “এক কায করুন। আপনি যে পাত্রের সহিত সম্বন্ধ স্থির করিয়াছেন, সে ত মূৰ্য, শুনিলাম ; ঘরেও বিশেষ কিছু সংস্থান নাই। অথচ তাহাকে পাঁচ শত টাকা দিতে হইবে। আমার এক জাতি ভ্রাতা আছে। রামচরণকে জানেন তা ? সে এখনও অবিবাহিত। যদিও সে মুৰ্থ বটে, তবু মোটা অল্পবক্সের কষ্ট কোন দিন পাইবে না । তাহার সহিত আপনার মেয়ের