পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (চতুর্থ বর্ষ).pdf/২৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R8o আৰ্য্যাবৰ্ত্ত । ৪র্থ বর্ষ-৩য় সংখ্যা । ন্যায় অঙ্কিত হইয়াছে “খোদা নাই। প্ৰতিশোধ চাহি।’ সে রেখা সহজে মুছিল না। রহিম ভাল করিয়া সোমনাথের সহিত দেখা করিতেও १ांत्रुिढ् जी । ( ܘ ) বাসন্তী পূর্ণিমা। বকুলমূলে ব্ৰাহ্মণসভা বসিয়াছে। মহামহোপাধ্যায় রামতারণ মহা আড়ম্বরে বসিয়া আছেন। তঁহার প্রকৃতিতে কিছু বৈলক্ষণ্য ঘটয়াছে ; কোথাও কোন বাধা না পাওয়ায় তাহার ঔদ্ধত্য সকল সীমা ছাড়াইয়া উঠিয়াছে। সোমনাথও সভায় উপস্থিত আছেন। কালের গতিও কিছু পরিবৰ্ত্তিত হইয়াছে। আজ বহু ব্ৰাহ্মণ মনে মনে সোমনাথের পক্ষপাতী হইয়া উঠিয়াছেন। রামতারণ কালের গতি বুঝিতে সক্ষম হয়েন নাই। চিরদিন যেরূপ ভাবে চলিয়াছেন তদ্ব্যতীত অন্যপথে আপনাকে চালিত করিবার ক্ষমতাও তাহার নাই। রামতারণ সোমনাথের কাৰ্য্যে ইঙ্গিত করিয়া দারুণ বিদ্রুপবাণ বর্ষণ করিতে লাগিলেন। কঠোরতা মূৰ্ত্তিমতী হইয়া কঁহার রসনায় অধিষ্ঠিত হইল, র্তাহার সমস্ত শিক্ষা সমস্ত অধ্যবসায় আজ সোমনাথকে অপদস্থ করিতে নিযুক্ত হইল। কয়েকটি লোক সোমনাথের পক্ষ সমর্থন করিবার চেষ্টা পাইলে সোমনাথ তাহাদিগকে নিবারণ করিলেন । মহামহোপাধ্যায়। বিদ্রুপ করিতে করিতে আত্মবিস্মৃত হইলেন, ক্রোধের আতিশয্যে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে দিতে র্তাহার বাক্য রোধ হইল-মুখ দিয়া ফেনী উঠিতে লাগিল । তিনি অবসন্ন হইয়া পড়িলেন। সোমনাথ ইঙ্গিত করিলেন, জনৈক শিষ্য মহামোহপাধ্যায়কে বীজন করিয়া সুস্থ করিল। স্থির গম্ভীর সোমনাথের কমনীয় বদনে কোমণজ্যোতি সৰ্ব্বদাই খেলা করিত, আজ যেন তাহা কোমলতার ও সমুজ্জ্বলতর হইয়া উঠিল। তাহার হৃদয় বিশ্বজনীন প্ৰেমে গলিয়া গিয়াছে, মুখে তাহারই আভা ফুটিয়া উঠিতেছে, ধীর কণ্ঠে সোমনাথ কথা কহিতে আরম্ভ করিলেন। সব কোলাহল থামিয়া গেল ; সমগ্ৰ সভা নিস্তব্ধ হইল। সোমনাথ বলিলেন, “মোহিনী মায়ায় মুগ্ধ হইয়া সৰ্ব্বজীব দেহাদিতে অহংবুদ্ধি করিয়া অতি অভিমানী হইয়া উঠে। তাহ মোক্ষপথের নিতান্ত অন্তরায় । তাই সমগ্ৰ হিন্দুশাস্ত্র এমন কৰ্ম্মের ব্যবস্থা দিয়াছেন যাহাতে সেই অভিমানের হস্ত হইতে জীব পরিত্রাণ পায়। যাহারা দুৰ্বল, শাস্ত্রের উপদেশ কাৰ্য্যে পরিণত করিতে অক্ষম, ভগবানের শাসনে তাহারা এমন কৰ্ম্মে প্রযুক্ত হয় যাহাতে সেই কৰ্ম্মের পরিপাক