পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (চতুর্থ বর্ষ).pdf/৫৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আছে। দুই চারিজন সেই পথে অতিকষ্টে তারকেশ্বর হইতে অস্ক ‘সকালে হরিপালে আসিয়াছেন। তাহারা পথের দুর্গমতার সাক্ষ্য দিলেন। ” ৰজগোপাল বলিল, “যদি কোন ক্রমে উহায়া আসিতে পারিয়া থাকে, আমরা যাইতে পারিব না কেন ?” নিশ্চিতই । সুতরাং আমরা কাহারও বাধা মানিলাম না ; অগ্রসর হইলাম। বন্যার স্রোতোবেগে রেলপথের কোন কোন স্থলের বিশ পঁচিশ হাত মাটী কোথায় ভাসিয়া গিয়াছে। শুধু লৌহ-রেল-লাইন বক্র অবস্থায় উভয় পারের সংযোগের সাক্ষ্য দিতেছে। নিয়ে প্রবল জলস্রোত । চারিদিক জলমগ্ন। কোথাও প্রাণীমাত্রের চিকু নাই। উভয়ে জুতা খুলিয়া সন্তৰ্পণে সেই রেল-লাইনের উপর দিয়া পরপারে পহুছিলাম। একবার পদস্খলন হইলে জলস্রোতে কোথায় ভাসিয়া যাইব, কে জানে ? কিন্তু হৃদয় কোনও বাধা মানিল না। এইরূপে কতগুলি বিপদসঙ্কুল খাত পার হইলাম তাহার Ni af তারকেশ্বর ষ্টেশনে পহছিলাম। শত শত নিরাশ্রয় ব্যক্তি ষ্টেশনের প্লাটফরমে ও রেলগাড়ীর মধ্যে আশ্ৰয় লইয়া কয়দিন কোনরূপে জীবনরক্ষা করিয়া আসিতেছে। দ্রব্যাদি পরিপূর্ণ কয়েকখানি নৌকা একটু পূর্বে আসিয়া । পহছিয়াছে। এখন দুরবর্তী গ্রামে "রিলিফ' পাঠাইতে হইবে। গ্রামসমূহের অবস্থা কিরূপ শোচনীয় কেহ তাহা এখনও বলিতে পারেন নাই। বহু স্বেচ্ছাসেবক তখনও তারকেশ্বরে আইসেন নাই। দুইবন্ধু এক খানি আহাৰ্য্যপূর্ণ জেলে ডিঙ্গি অধিকার করিয়া বসিলাম। ( 0 ) একটা বিচিত্র তথ্য, আবিষ্কার করিলাম। সভ্যতার মনুমেন্ট মহানগরী কলিকাতার এত নিকটবৰ্ত্তী পল্লীবাসীরা একনিষ্ঠ ব্ৰাহ্মণভক্ত ! ব্ৰাহ্মণের নদী পার হইবার সময় ‘পারাণী” পয়সাটি পৰ্যন্ত দিতে হয় না। সহস্ৰ কৰ্ম্ম থাকুক, ব্ৰাহ্মণ যদি কাহাকেও কোন কায করিতে অনুরোধ করেন, সে সৰ্ব্বাগ্ৰে তাহার আদেশ পালন করিবে । নিজের অসুবিধা সত্বেও বর্ণশ্রেষ্ঠ উপবীতবারী দ্বিজকে সে সর্বপ্রকার সেবা করিয়া তৃপ্ত করিতে পারিলে আপনাকে ধন্য মানিবে। অতিরঞ্জন নহে ; ইহা প্রত্যক্ষ করিলাম। ব্ৰজগোপাল ব্ৰাহ্মণ সন্তান। আমি চিত্রগুপ্তের বংশধর। বন্ধু পরামর্শ দিলেন, এ স্থানে দ্বিজ সাজিতে না পারিলে অনেক বিষয়ে অসুবিধা হইবে।