পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (তৃতীয় বর্ষ).pdf/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Q আৰ্য্যাবৰ্ত্ত । । oश चर्थ-> म९९ ॥ লতিকায় আচ্ছন্ন হইয়াছে, পুনরায় গ্রীষ্মে তৃণ, পত্র, পুষ্প শুষ্ক হইয়া ধূলিতে পরিণত হইয়াছে। স্তুপের যে স্তম্ভগুলি তখনও পৰ্য্যন্ত দণ্ডায়মান ছিল মনুষ্যহস্তে মাৰ্জনার অভাবে সেগুলি পিছিল শৈবালময় হইয়া উঠিয়াছে। সেই সময়ে বৃদ্ধের সমাধির উপরে একটি অশ্বখ বৃক্ষ জন্মগ্রহণ করিয়াছিল। কালক্রমে বয়োবৃদ্ধির সহিত বৃক্ষটি দীর্ঘাকার প্রাপ্ত হইলে তাহার চতুঃপার্শ্বস্থ ভূখণ্ড অপেক্ষাকৃত পরিষ্কৃত হইয়া উঠিয়াছিল। নিদাঘে দ্বিপ্রহরে নানাবিধ মৃগ আসিয়া বৃক্ষতলে আশ্রয় গ্রহণ করিত, ও সন্ধ্যাগমে পুনরুদয়-" নিবিড় বনমধ্যে প্ৰস্থান করিত। তবে বৃক্ষের আকারবুদ্ধির সহিত আর একটি ঘটনা ঘটিতেছিল, তাহাতে আমাদিগের বিশেষ উপকার হয় নাই । বৃক্ষের শাখাপ্রশাখাসমূহের ভারে নানাস্থানে দণ্ডায়মান প্রাচীন স্তু পবেষ্টনীর স্তম্ভগুলি ক্রমশঃ পতিত হইতেছিল, বৃক্ষকাণ্ডের স্থূলতাবৃদ্ধির সহিত মূল- , গুলির সংখ্যা ও অবয়বৃদ্ধি হইতেছিল এবং তাহার ফলে বহুপ্ৰাচীন পরিক্রমণের পথের পাষাণখণ্ডগুলি স্থানচু্যত ও উৎপাটিত হইতেছিল। কতকাল ধরিয়া অশ্বখবৃক্ষ ধ্বংসাবশিষ্ট স্তুপের বিনাশসাধনে প্রবৃত্ত ছিল তাহা বলিতে আমি অক্ষম। কিন্তু সে বহুকাল হইবে। এই দীর্ঘকালের মধ্যে মানবের আকার আমাদিগের নয়নগোচর হয় নাই। সময়ের প্রারম্ভ হইতে সেই সময় পৰ্যন্ত যাহা কিছু দেখিয়াছিলাম সৰ্ব্বদা সেই কথাই চিন্তা করিতাম। হরিদ্বর্ণ, শৈবালসমাচ্ছাদিত রক্ত প্ৰস্তরকণমণ্ডলীর মধ্যে সর্বদাই প্ৰাচীন কাহিনীর আলোচনা হইত। সকলেই পুনরায় মানবদর্শনের আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল হইয়া থাকিত। গ্রীষ্মের পর বর্ষা, বর্ষার পর শীত, এইরূপ ভাবে দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হইল। মানবের চিরপরিচিত পদশব্দ আমাদিগের আর কর্ণগোচর इईण ना । কোন কোনও দিন দ্বিপ্রহরে পিপাসিতু মৃগসমূহ জালান্বেষণে আসিয়া অশ্বখবৃক্ষতলে বিশ্রাম করিত, ইহাদিগের পদচিহ্ন বর্ষা ব্যতীত অপর সময়ে সপ্তাহকাল পৰ্য্যন্ত বৃক্ষতলে দৃষ্ট হইত। এক দিন প্ৰভাতে দীর্ঘাকার, ক্ষীণদেহ একটি ব্যাস্ত্ৰ বৃক্ষতলে ক্লান্তি দূর করিতেছিল এবং সময়ে সময়ে উৎকৰ্ণ হইয়া বনমধ্য হইতে আগত পদশব্দ লক্ষ্য করিতেছিল। অল্পক্ষণপরে বহু দূরে হন্তিপদশব্দ শ্রুত হইল। সেই পদশব্দ বনবাসী স্বাধীন করিয়ুথের আহারান্বেষণে যথেচ্ছ পাদচারণের শব্দ নহে, মনুষ্যকর্তৃক চালিত হস্তীর ধীর-সমভাবে পাদক্ষেপণের শব্দ। শব্দ শ্রুতিগোচর হইলে শাৰ্দ্দল অস্থির হইয়া উঠিল।