পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/১৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ao আৰ্যবৰ্ত্ত -o: N মে মাসে লেজোয়া বেগমের সৈন্যদলের যুরোপীয় কৰ্ম্মচারীদিগের নিকট এক অদীকায় পত্ৰ লইলেন যে, তাহারা জাফর ইয়াবের আদেশমত কাৰ্য্য করিবেন। এই পত্র লইয়া তিনি দিল্লীতে গমন করিলেন। এই পত্রের স্বাক্ষরকারীরা প্ৰায় সকলেই নিরক্ষার বলিয়া “ঢেরা সহি” করিয়াছিলেন । এই আকস্মিক বিপদের আভাস পাইয়া বেগম ও তঁাহার স্বামী ইংরাজের আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন এবং অনুপসহৱে যাইয়া আশ্রয় লইতে আদিষ্ট হইলেন। এই সকল ব্যবস্থায় গ্রীষ্মকাল অতিবাহিত হইল। এই সময় মাধোজী সিন্ধিয়া দিল্লীশ্বরের প্রতিনিধি ও আৰ্য্যাবর্তের ভাগ্যবিধাতা। বেগম দিল্লীশ্বরের সৈন্যসাহাৰ্য্যাৰ্থ প্রদত্ত জায়গীর ভোগ করিতেছিলেন। সুতরাং তঁহাকে স্থানত্যাগের জন্য সিন্ধিয়ার অনুমতি লইতে হইল। এদিকে আবার ইংরাজরাজ্যে প্ৰবেশ করিবার জন্য বেগমকে ইংরাজ শাসনকৰ্ত্তার ”অনুমতি লাইতে হইল। কাযেই বিলম্ব অনিবাৰ্য্য। বেগম ইংরাজ সরকারের নিকট আশ্ৰয় প্রার্থনা করিলে গভর্ণর জেনারল সার জন শোর সিন্ধিয়ার দরবারে তাহার হইয়া অনুরোধ করিবার জন্য ইংরাজ দূত পামারকে উপদেশ দিলেন । সিন্ধিয়া বলিলেন, বেগম দ্বাদশ লক্ষ টাকা দিলে তাহাকে দিল্লীশ্বরের কাৰ্য্যত্যাগের অনুমতি দেওয়া যাইতে পারে। উত্তরে বেগম ঐ টাকা দিতে অস্বীকার করিলেন, এবং সমরুর ও র্তাহার প্রদত্ত অস্ত্ৰাদির মূল্য বাবদ চার লক্ষ টাকা দাবী করিলেন। বহু কষ্ট তিনি কাৰ্য্যত্যাগের অনুমতি পাইলেন। স্থির হইল, বেগম স্থায়িভাবে চন্দননগরে বাস করিবেন, সিন্ধিয়ার * একজন সৈনিক কৰ্ম্মচারী সাৰ্দ্ধনার সৈন্যদলের ভার পাইবেন এবং সমরুর পুত্র মাসিক দুই সহস্র টাকা বৃত্তি পাইবেন। অক্টোবর মাসে একদিন প্ৰত্যুষে বেগম পাল্কীতে ও লুভাসুলত অশ্বারোহণে সাৰ্দ্ধান ত্যাগ করিলেন। তঁহারা সঙ্গে প্রচুর অস্থাবর সম্পত্তি ও অর্থ লইলেন। তাহারা তিন মাইল পথ অতিক্রম না করিতেই পশ্চাতে ধূলি দেখিয়া অনুসরণকারী শত্রুদিগের আগমন অনুমান করিলেন। তখন পতিপত্নী এই প্ৰতিজ্ঞাবদ্ধ হইলেন যে, একজনের মৃত্যু হইলে অন্যজন আত্মঘাতী হইবেন। লুভাসুলত অর্থবাহকদিগকে দ্রুত যাইবার জন্য তাড়না করিতে লাগিলেন। কিন্তু অনুসরণকারীরা অল্পকাল মধ্যেই আসিয়া শিবিক অবরোধ করিল। বেগম স্বীয় অঙ্গে অস্ত্ৰাঘাত করিলেন। একজন কৰ্ম্মচারী বেগমের একখণ্ড রক্তসিক্ত বস্ত্ৰ লুভাসুলতের নিকট আনিলে তিনি বেগমের মৃত্যু হইয়াছে মনে করিয়া পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করিলেন। বেগমের আঘাত গুরুতর হয় নাই। শত্রুরা তাহাকে বন্দী