পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৈশাখ, ১৩১৭ ৷৷ চিতোর ॥২০ 80 গেলাম। বণিক অর্থে এবং শারীরিক সামর্থ্যে শ্রেষ্ঠতর হইলেও বিনাবাক্য- “ ব্যয়ে উঠিয়া রাজপুতের বসিবার স্থান করিয়া দিল। সেই ‘বেণিয়া’ শব্দটা সে কি ঘূণার সহিতই উচ্চারণ করিয়াছিল ৷ শব্দটার মধ্যে নিম্নলিখিত ভাবটা যেন প্রচ্ছন্ন ছিল—“তুমি অর্থকরী ব্যবসায়ের কল্যাণে আজ ধনগৰ্ব্বে গৰ্ব্বিত হইয়া, উঠিয়াছ-কিন্তু, আমার শিরায় রাজপুত রক্ত বহিতেছে, মরিয়া গেলেও আমি তোমার ন্যায় নীচ বাক্তিকে ভয় করি না।” যখন চিতোরগড় ষ্টেসনে পৌছিলাম তখন রাত্ৰি প্ৰায় দশটা ৷ এই অপরিচিত স্থানে একাকী কোথায় যাইব ? কাযেই, রাত্রিটুিকু ষ্টেসনের ওয়েটিং রুমে কাটাইয়া দিলাম। প্ৰত্যুষে উঠিয়া চিতোর পাহাড় অভিমুখে যাত্ৰা করিলাম। ষ্টেসনমাষ্টারকে বলিয়া আমার দ্রব্যাদি তাহার আফিস ঘরের এক কোণে রাখিয়া দিলাম। ষ্টেদনটি অতি ক্ষুদ্র-খাবার মিলে না । যাহা হউক, সৌভাগ্যক্ৰমে সকালে একজন চা-বিস্কুট-বিক্রেতা আসিল-তাহার নিকট চা ও বিস্কুট ক্রিয় করিলাম ; তাহার পর পাহাড় অভিমুখে রওনা হইলাম। চারিদিকে সমতল ক্ষেত্রের মধ্যে চিতোর পাহাড় মাথা তুলিয়া আছে। পাহাড়; অত্যধিক উচ্চ না হইলেও, অত্যন্ত দীর্ঘ এবং প্রস্থেও কম নহে। পাহাড়ের উপরে বিস্তুত চিতোর দুর্গ-পাদদেশে চিতোর নগর। বহুদূর হইতে এই পাহাড় এবং তদুপরিস্থ রাণা কুম্ভের জয়স্তম্ভ দেখিতে পাওয়া যায়। ষ্টেসনটি মাঠের মধ্যে অবস্থিত । প্ৰায় এক মাইল মাঠ অতিক্ৰম করিয়া গম্ভীরা নদীর তীরে উপনীত হইলাম । গ্রীষ্মে জল শুকাইয়া প্ৰস্তরকঙ্করময় তলদেশ বাহির হইয়া পড়িয়াছে—মধ্যে মধ্যে ঝির ঝির করিয়া একটু জল বাহিতেছে ; হাটিয়া পার হইয়া গেলাম। নদীর উপর একটি সেতু আছে, এক বা হস্তী এবং বর্ষাকালে মানুষ তাহার উপর দিয়া নদী পার হয়। ਬ নদীটির পর পারেই চিতোর-এককালে মেবার রাজ্যের মহাসমৃদ্ধিশালিনী রাজধানী, এক্ষণে সামান্য একটি গণ্ডগ্ৰামমাত্র । সকল ‘পশ্চিমা’ সহরের মত সঙ্কীর্ণ গলি এবং দুই ধারে পাথরের বাড়ী, তাহাতে দরজা-জানালার সম্পর্ক অতি কম। প্রখর সুৰ্য্যতাপ হইতে রক্ষা পাইবার জন্য এবং দসু্যতস্করের উপদ্ৰবনিবারণ জন্যই বোধ হয় বাড়ীগুলি এইরূপে নিৰ্ম্মিত छुझेख्छ । পাহাড়ে উঠবার পূর্বে সহর হইতে একজন পথপ্রদর্শক সংগ্ৰহ করিবার