পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/৬২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শাস্ত্ৰাণোচনার স্থানে অতিবাহিত করিয়া অবশেষে চন্দে-ননগরে উপনীত খাইছিলেন। কিন্তু এইরূপে স্বদেশীয় তষবিদগণের নিকটে ধৰ্ম্মেপদেশ প্ৰাপ্ত হইয়াও, ধৰ্ম্ম সম্বন্ধে তাহার সকল সন্দেহ বিদূরিত হইল না। যে সকল ফুট প্রশ্ন অহােরাত্র তাহার মনে জাগায়ক ছিল, সেই সকল প্রশ্বের যথাযথ মীমাংসা করিতে র্তাহার স্বদেশীয় পণ্ডিতগণ অসমর্থ হইলেন। ফা-হিয়ান প্রমুখ ষে সকল বৌদ্ধ পৰ্যটকগণ তৎপূর্বেই ভারতবর্ষে আগমন করিয়াছিলেন, তাহাদিগের লিখিত ও সংগৃহীত পুস্তকাবলী এই সময়ে যুক্তমনচুয়াঙ্গের নয়নগোচর হইল। এই সকল গ্ৰন্থ পাঠ করিবার উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে আগমন করিতে তাহারও বাসনা হইল। তথায় গমনপূর্বক মূল ধৰ্ম্মগ্রন্থ সমূহ অধ্যয়ন করিয়া আপনার সন্দেহ ভঞ্জন করিতে এবং বুদ্ধদেবের লীলাস্থলগুলি দর্শন করিয়া কৃতাৰ্থ হইবার জন্য ভক্তের প্রাণ ব্যাকুল হইয়া উঠিল। তাহার সঙ্কল্পানুযায়ী কাৰ্য্য করিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হইয়া, য়ু অনা-চুয়ং ৬২৯ খৃঃ অব্দে, ছবিশ বৎসর বয়সে চঙ্গে-অন নগর পরিত্যাগ করিয়া বিদেশাভিমুখে স্বাত্রা করিলেন।

; চীন হইতে ভারতবর্ষে স্থলপথে আসিতে হইলে বহু তৃণলতাশূন্য বিস্তীর্ণ মরুভূমি, তুষারমণ্ডিত দুৰ্গম পৰ্বত, জীবন-সঙ্কট সঙ্কীর্ণ গিরি-সঙ্কট, হিংস্রশ্বাপদসংকুল নিবিড় অরণ্যানী প্রতি মুহুর্তে পথিকের পদে পদে বাধা প্ৰদান করে। অদম্য-অধ্যবসায়-সম্পন্ন, ধৰ্ম্মোন্মত্ত, বুদ্ধচিন্তায় বিভোর, নবীন মগ্ন্যাসী য়ু অনা-চুয়ং কিরূপে এই সকল বাধাবিন্ন অতিক্রম করিয়া ভারতে শুভাগমন করিয়া ছিলেন, তাহা আমরা বিশদভাবে বর্ণনা করিব না,- : তবে এইমাত্র বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে, তাহাকে পথিমধ্যে যৎপরোনাস্তি কষ্ট পাইতে হইয়াছিল।--তখন চীন সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ উপস্থিত। তজ্জন্য সীমান্ত-প্রদেশের রক্ষকগণ কাহাকেও সাম্রাজ্যের বাহিরে যাইতে দিতেছেন মা-সুতরাং রক্ষকগণের অজ্ঞাতসারে কোন গতিকে ঘাট হইতে নিজমণ, পথিমধ্যে বন্ধুগণের মৃত্যু, সময়ে সময়ে পথ-প্রদর্শক-বিহীনতা প্রভৃতি মানাবিধ হুঃখ-কষ্ট তাঁহাকে প্রতিদিন প্ৰপীড়িত করিয়াছিল। অভিন্ন স্বাগতুষ্ণিকায় বিভ্রান্ত, তৃণশূন্য মরুদ্দেশে পথভ্রষ্ট, অনশনে ক্লিষ্ট, তৃষ্ণায় ভূষিত পুঁইত্যাদি নানারূপে বিপদগ্ৰস্ত হইয়া, অশেষ যমযন্ত্রণা সহ্য করিয়া মুঅনা-চুয়াং ঠাখার উপাস্য দেবতা বুদ্ধদেবের জন্মভূমি ভারতবর্ষে উপনীত হইতে