পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/৭৯০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লিঙ্গ ও অস্ত্যবর্ণই বিশেষ্যের রূপপরিবর্তন-প্ৰণালী নির্দেশ করিয়া প্রত্যেক । শব্দের স্বাতন্ত্র্য-বিধান করে। লিঙ্গ ও অন্ত্যবর্ণ নিরীক্ষণ না করিয়া শব্দের । বিশেষ অস্তিত্ব ও স্বতন্ত্র মূল্য নিৰ্দ্ধারিত হইতে পারে না। এই জন্য বিশেষ্য, শব্দগুলি ছয় শ্রেণীর অন্তৰ্গত-পুংলিঙ্গ (স্বরান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত), স্ত্রীলিঙ্গ, ( স্বরান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত) এবং ক্লীবলিঙ্গ (স্বরান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত) ; এবং প্রত্যেক । শ্রেণীরই ভিন্ন ভিন্ন রূপ-পরিবর্তন প্ৰণালী । . এই ছয় শ্রেণীর বিষয়বাচক বিশেষ্য শব্দের প্রত্যেকটির বচন অনুসারে । তিন প্রকার রূপ হইয়া থাকে। একটি পদাৰ্থ বিষয়ে বক্তব্যজ্ঞাপন । করিবার জন্য বাক্য-রচনা করিতে হইলে শব্দের সহিত যে প্রকার বিভক্তি যোগ করিতে হয়, দুইটি পদার্থ সম্বন্ধে কিছু বলিবার প্রয়োজন হইলে সেই পদার্থবাচক শব্দের সেইরূপ বিভক্তি যোগ করা হয় না, এবং বহুসংখ্যক . বিষয়ে বাক্য-রচনা করিতে হইলে অন্যরূপ বিভক্তিযোগ করিতে হয়। ইহার ফলে বিষয়বাচক শব্দগুলি সংখ্যানুসারে ভিন্ন ভিন্ন তিন প্ৰকার চিকু ধারণ, করে। এতদ্ব্যতীত সম্বোধন করিয়া কোন বস্তু বা ব্যক্তিকে আহবান করিতে। হইলেও সংখ্যানুসারে শব্দের তিন প্রকার আকৃতি-পরিবর্তন করিতে হয়। বিশেষ্য শব্দগুলির ন্যায় বিষয়বাচক সৰ্ব্বনাম শব্দেরও তিন প্রকার লিঙ্গ ; এবং লিঙ্গ অনুসারে প্রত্যেকের রূপ-পরিবর্তন হইয়া থাকে। কিন্তু অন্ত্যবর্ণের প্রাধান্যে কোন পরিবর্তন সাধিত হয় না। এই জন্য প্ৰত্যেক । সৰ্ব্বনাম শব্দ লিঙ্গ অনুসারে কেবলমাত্র তিন প্ৰকার বিভক্তি ধারণ করে। বিশেষ্য শব্দগুলির ন্যায়। ইহাদেরও বচন তিন প্রকার। কিন্তু বিশেষ্য। শব্দের সম্বোধনে যেমন রূপ-পরিবৰ্ত্তিত হইয়া থাকে, সাধারণতঃ সর্বনাম শব্দের দ্বারা সেইরূপ সম্বোধন অর্থ প্ৰকাশ করিবার প্রয়োজন হয় না, এজন্য সম্বোধনের কোন রূপ-পরিবর্তন শব্দের বৈচিত্র্য-সাধন করে না। ফলতঃ প্রত্যেক বিষয়বাচক সৰ্ব্বনাম শব্দ তিন প্রকার লিঙ্গের এবং তিন প্রকার বচনের ফলে সর্বসমেত নয় প্রকার অর্থবাচক চিকু ধারণ করে। উবুন্টু দ্বিতীয়তঃ, বক্তৰ্যবাচক শব্দসমূহ। ইহারা ক্রিয়া জাতীয়। সংস্কৃতি ভাষায় যতগুলি ক্রিয়াবাচক শব্দ আছে তাহারা প্ৰধানতঃ দশ গণ বা শ্রেণীতে বিভক্ত। ইহাদের প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে ভিন্ন ভিন্ন প্ৰণালীতে: ক্রিয়া শব্দের কোন লিঙ্গ থাকে না ; সুতরাং কোন পরিবর্তন সাধিত্ব হয় ।