পাতা:আলালের ঘরের দুলাল.djvu/১৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
[ ১৩১ ]

২২ বাঞ্ছারাম ও ঠকচাচা মতিলালকে সৌদাগরী

কর্ম্ম করিতে পরামর্শ দেন, মতিলাল দিন দেখাইবার

জন্য তর্কসিদ্ধান্তের নিকট মানগোবিন্দকে পাঠান,

পর দিবস রাহি হয়েন ও ধনামালার সহিত গঙ্গাতে

বকাবকি করেন।


 মতিলাল দেখিলেন বাটী হইতে মা গেলেন, ভাই গেলেন, ভগিনী গেলেন। আপদের শান্তি! এতদিনের পর নিষ্কণ্টক হইল —ফেচ্‌ফেচানি একেবারে বন্ধ —এক চোক রাঙ্গানিতে কর্ম্ম কেয়াল হইয়া উঠিল আর “প্রহারেণ ধনঞ্জয়ঃ” সে সব হল বটে কিন্তু শরার রুধির ফুরিয়ে এল —তার উপায় কি? বাবুয়ানার জোগাড় কিরূপে চলে? খুচরা মহাজন বেটাদের টাল্‌মাটাল আর করিতে পারা যায় না। উটনোওয়ালারাও উটনো বন্ধ করিয়াছে —এদিকে সাম্‌নে স্নানযাত্রা —বজরা ভাড়া করিতে আছে —খেম্‌টাওয়ালিদের বায়না দিতে আছে —সন্দেশ মেঠাইয়ের ফরমাইস দিতে আছে —চরস, গাঁজা ও মদও আনাইতে হইবে —তার আটখানার পাটখানাও হয় নাই। এই সকল চিন্তায় মতিলাল চিন্তিত আছেন এমত সময়ে বাঞ্ছারাম ও ঠকচাচা আসিয়া উপস্থিত হইল। দুই-একটা কথার পরে তাহারা জিজ্ঞাসা করিল —বড়বাবু! কিছু বিমর্ষ কেন? তোমাকে ম্লান দেখিলে যে আমরা ম্লান হই —তোমার যে বয়েস তাতে সর্ব্বদা হাসি খুসি করিবে। গালে হাত কেন? ছি! ভাল করিয়া রসো। মতিলাল এই মিষ্ট বাক্যে ভিজিয়া আপন মনের কথা সকল ব্যক্ত করিল। বাঞ্ছরাম বলিলেন —তার জন্যে এত ভাবনা