পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আশুতোষ-স্মৃতিকথা وہ 8 مS অর্থসাহায্যের জন্য আসিত না, সেরূপ সাহায্য তো তাহারা সর্বদাই পাইত,-অধিকন্তু তাহারা কি ভাবে কাজ করিবে, তাহার উপদেশের জন্য সর্বদা অপেক্ষা করিত। তঁহার কৰ্ম্ম-বহুল জীবনের বিচিত্ৰ কৰ্ত্তব্যগুলির মধ্যেও তিনি তাহদের কথা শুনিবার জন্য অবকাশ করিয়া লইতেন। দেশের যুবক-সম্প্রদায়ের উপর তাহার বহু আশা ও আস্থা ছিল ; তিনি অনেক সময়ে তাহাদিগকে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিতেন, তন্মধ্যে নিম্নলিখিত কথাগুলি দৃষ্টান্ত-স্থলীয় :-“যদিও তোমরা পাশ্চাত্ত্য শিক্ষার স্রোতে আকণ্ঠ-নিমজ্জিত হইয়া আছ, তথাপি ভারতের সমুন্নত চিন্তা, ভারতীয় শ্রেষ্ঠ ভাবগুলি এবং এদেশের আচারব্যবহারের মধ্যে যাহা কিছু উৎকৃষ্ট, তাহার প্রতি বিরূপ হইও না । পাশ্চাত্ত্য প্রখর আলোতে অন্ধ হইয়া এতদ্দেশের যে অমূল্য সম্পদ তোমরা উত্তরাধিকার-সুত্ৰে পাইয়াছ, তৎপ্ৰতি উপেক্ষাশীল হইও না । তোমরা পাশ্চাত্ত্য জগতের যাহা কিছু ভাল, তৎপ্ৰতি শ্রদ্ধাশীল অবশ্যই হইবে, কিন্তু তাই বলিয়া নিজের জাতীয়তা ত্যাগ করিও না । তোমরা খাটি ভারতীয় লোক, একথা সর্বদা স্বীকার করিতে দ্বিধা করিও না এবং পোষাক ও রুচির অভিমানের ক্ষুদ্রািত্ব হইতে নিজদিগকে সর্বদা রক্ষা করিও । সর্বাপেক্ষা বড় কথা, তোমাদের দেশের ভাষা যত্নের সহিত অনুশীলন করিবে, কারণ দেশীয় ভাষার সাহায্যেই তোমরা এ দেশের জনসাধারণের মন ছুইতে পারিবে এবং পাশ্চাত্ত্য বিদ্যার রত্বরাজি তাহাদের কাছে পৌছাইয়া দিতে পারিবে ।” আশুতোষের স্মৃতি-শক্তি অতীর অসাধারণ ছিল । তিনি যে সকল লোক বহুবৎসর পূর্বে একবার মাত্ৰ দেখিয়াছেন, তাহদেরও নাম-ঠিকান। আশ্চৰ্য্যজনকভাবে মনে রাখিতেন । ইহা অতীব বিস্ময়কর ব্যাপার, যেহেতু অসংখ্য শ্রেণীর অসংখ্য লোক নিত্য র্তাহার গৃহে ভিড় করিত। তঁহার পাঠাগার নানা-বিষয়ক, অসংখ্য পুস্তকে পূর্ণ ছিল, তিনি কখনও তাহাদের ‘ক্যাটালগ” প্ৰস্তুত করেন নাই। তঁহাকে বাড়ীতে এই সকল পুস্তকের মধ্যে ডুবিয়া থাকিতে দেখা যাইত-এই পুস্তক-রক্ষার কোন শৃঙ্খলা ছিল না, কিন্তু তথাপি তাহাদের শ্রেণী-বিভাগ তাহার মনের ভিতরে ছিল । তিনি কেবল আড়ম্বর দেখাইবার, জন্য সেগুলি সংগ্রহ করেন নাই, তিনি সৰ্ব্বদা পুস্তকগুলির যথোচিত ব্যবহার করিতেন । তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে সে সমস্ত পুস্তক সাজাইয়া রাখিতেন ; অনেক সময় তাহারা তঁহার আবাস-গৃহের সম্ভবপর প্রত্যেক কক্ষে ও কোণে বিক্ষিপ্ত থাকিত, তথাপি তিনি নিজে জানিতেন তাহদের কোনটি কোন খানে আছে। আশুতোষের বন্ধুরা সর্বদা তাহার উপর নির্ভর করিতেন, তিনি তাঁহাদের অখণ্ড বিশ্বাসের পাত্র ছিলেন। তঁহাদের উপকারের জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিতেন এবং তাহাদের কেহ বিপদে পড়িলে, তঁহাকে উদ্ধার করিবার জন্য কোন চেষ্টাই বাকি রাখিতেন না। তবে এটাও বলা উচিত, প্রকৃত কারণে তাহার বিদ্বেষ জন্মিলে, তাহ সহজে দূর