পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R 87 আশুতোষ-স্মৃতিকথা ভারত-সম্রাটের প্রতিনিধি, সপরিষদ গভর্ণর-জেনারেল তাঁহাকে যাইতে কেৰ। করিয়াছেন।” আশুতোষ তিলাৰ্দ্ধ না ভাবিয়া উত্তর लिन,-'छाशा छझेल আমি আমার মাতার পক্ষ হইতে জানাইব’ যে, তিনি তাহার পুত্রের উপর আদেশ করিবার অধিকার, তিনি ভিন্ন আর কাহারও আছে, এ কথা। কিছুতেই স্বীকার করেন না ।” যদিও তিনি গোড়া ব্ৰাহ্মণ ছিলেন, এবং অপরাপর সম্রান্ত গৃহের ন্যায় তাহার বাড়ীতে ও ধৰ্ম্মের নানারূপ উৎসব রীতিমত নিৰ্বাহিত হইত, তথাপি তিনি সমাজ-সংস্কারে আগ্রহশীল ছিলেন । ১৯০৮ খৃষ্টাব্দে তিনি টুর্তাহার বালবিধবা জ্যেষ্ঠা কন্যার দ্বিতীয় বার বিবাহ দিয়াছিলেন। এই কাৰ্য্যে আমরা তঁহার দুৰ্জয় সাহসের পরিচয় পাই, এই কাৰ্যোর ফলে তঁহাকে অনেক শক্ৰতা ও সামাজিক নিপীড়ন সহা করিতে হইয়াছিল। কিন্তু দুৰ্ভাগ্যবশতঃ কন্যাটি এক বৎসরের মধ্যে পুনরায় বিধবা হইলেন। আশুতোষ অতিশয় আত্মসংযমী ছিলেন, তিনি বাহিরে তঁহার নিদারুণ চিত্ত-ক্ষোভের কোন পরিচয় দেন নাই । কিন্তু এই ঘটনায় তাহার হৃদয় একেবারে ভাঙ্গিয়া পড়িয়া ছিল এবং তাহার তৎকাল পৰ্য্যন্ত পারিবারিক জীবনের উপর ঘোর দুঃখের ছায়াপাত করিয়াছিল। তিনি কন্যাটিকে অত্যন্ত ভালবাসিতেন এবং কন্যাও তঁহার প্রতি তেমনই অনুরক্ত ছিলেন। তিনি তাহার স্নেহময়ী কন্যার দুঃখ-ভার হ্রাস করিবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছিলেন । ১৯২৩ খৃষ্টাব্দে এই বালিকা তাহার পূর্বেই শান্তিপূর্ণ জ্যোতিৰ্ম্ময় ধামে চলিয়া গেলেন এবং এই শোক আশুতোষের হৃদয়ে যে তীব্র আঘাত দিয়াছিল, তেমন আঘাত তিনি জীবনে আর পান নাই। ১৯২৪ সনে, স্বীয় মৃত্যুর কিছু পূর্বে তিনি তাহার প্ৰিয়তমা কন্যার স্মৃতি তঁহার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গাঁথিয়া রাখিয়া গিয়াছেন ; তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপযুক্ত অর্থ-প্ৰদান করিয়া তাহার কন্যার নামে “কমলা-বক্তৃতা’র ব্যবস্থা করিয়াছেন। জীবনে র্তাহারা একত্র ছিলেন এবং মৃত্যুও তঁহাদিগকে বেশী দিন বিচ্ছিন্ন রাখিতে পারে নাই । ১৯২৫ খৃষ্টাব্দে মিসেস য়্যানি বেশান্তি প্ৰথম ‘কমলা-লেকচারার’-স্বরূপ বক্ত তা প্ৰদান করেন, তাহার কিছু পূর্বে আশুতোষ স্বৰ্গে গমন করিয়াছিলেন। আশুতোয্যের চরিত্যাখ্যান ভবিষ্যৎ ঐতিহাসিক কি ভাবে লক্ষ্য করবেন, তাঁহ৷ ভাবিবার বিষয়। এখনও তিনি আমাদের নিকটবৰ্ত্তী, তাহার বহুধা-বিভক্ত, বহুলক্ষ্যে ধাবিত কৰ্ম্মজীবনের ধারা ঠিক উপলব্ধি করিবার সময় এখনও আসে নাই। তিনি তঁহার সমকালীন স্বদেশবাসীদের মনের উপর বহু কাৰ্য্য-সূত্রে আধিপত্য করিয়া গিয়াছেন, সর্বত্রই তাহার প্রভুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পরিচয় সমভাবে দৃষ্ট হয়। “এইটিই তাহার প্রতিষ্ঠার প্রধান বিষয়”,-এরূপ। ভবিষ্যদ্বাণী করিবার সময় এখনও হয় নাই। সাহসিক উদ্যম, দৃঢ় সঙ্কল্প, অপূৰ্ব মনস্বিতা ও চরিত্ৰবল প্ৰভৃতিগুণে তিনি সেই সব দিকপালদের পংক্তিতে স্থান পাইবার যোগ্য, যাহারা বৃহৎ ও খণ্ড রাজ্য স্থাপন করিয়া গিয়াছেন। সার মাইকেল