পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


r Wycer-fsaw মাতুলালয়ে তিনি শৈশবে বহু কষ্ট পাইয়াছিলেন। পিতৃবিয়োগ র্তাহার মাতা সরস্বতী দেবীও পরলোকে গমন করেন এবং তিনি দুরবস্থার 5: সীমায় উপনীত হন। মাতৃ আজ্ঞায় উত্তরকালে তিনি জিরোিটই স্বীয় বাসবাদী নিৰ্ম্মাণ করিয়াছিলেন। নানারূপ অবস্থা-বিপৰ্য্যয়ের মধ্যেও তাহার মনটি ছিল আকাশের মত উদার। র্তাহার দানশীলতা এরূপ নির্বিচারে ও আর ভাবে চলিত যে, অনেক সময়ে ভবিষ্যতের কোন সংস্থান না। রাখিয়া তিনি সকলই দান করিয়া ফেলিতেন। তঁহার • ব্যয়শীলতাও অত্যধিক ছিল। জ্যেষ্ঠা কন্যা থাক:মণির অন্ন-প্ৰাশনে তিনি সেই সময়ের একহাজার টাকা ব্যয় করিয়াছিলেন (১৮৪২ খৃঃ, ২৪শে চৈত্র)। তঁহার মাতা সরস্বতী দেবী। ১৮৪৭ খৃষ্ঠাব্দে জগন্নাথ-দর্শনে পুরী গিয়াছিলেন। তথায়ও তিনি বিস্তর দান-ধান করিয়াছিলেন। বিশ্বনাথকে জিরেটে কেহ “বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়’ বলিয়া ডাকিত না, তিনি ‘বিশ্বনাথবাবু” নামে প্রতিষ্ঠা পাইয়াছিলেন। সেকালে এই ‘বাবু’ শব্দটি এখনকার মত সকলেই ব্যবহার করিতে পারিত না। বিশিষ্ট বায়শীল ও দাতারাই ঐ উপাধি পাইতেন । কিন্তু যে কারণে বিশ্বনাথ আমাদের কাছে আদরণীয়, তাহা এখনও বলা হয় নাই। এক শত বৎসর পূর্বে তিনি বাঙ্গলা ভাষায় তাহার একটা ভ্রমণ-বৃত্তান্ত লিখিয়া গিয়াছিলেন। এই বৃত্তান্তটি তঁহার গদ্য-রচনার নমুনা কালােনা হইতে জলপথে রংপুর পর্য্যন্ত যাওয়ার একটি ar? ইতিহাস। বাঙ্গলা দেশের একশত বৎসর পূর্বের নদীপথের একটা ভৌগোলিক বিবরণ ঐ রোজ-নামচায় তা ছ। ইহা পড়িলে সেই সময়কার পূর্ববঙ্গের যে অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়, তাহার সঙ্গে দেশের বর্তমান অবস্থার তারতম্য করিয়া দেখা যাইতে পারে। একশত বৎসর পূর্বে তৎকালীন শিক্ষিত ও পদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে এইরূপ ভ্ৰমণ-কাহিনী বাঙ্গলা-গদ্যে অনেকে লিখিতেন । যদুনাথ সর্বাধিকারীর রোজ-নামচা “সাহিত্য-পরিষৎ’ প্ৰকাশ করিয়াছেন। আমি সেই সময়ের লেখা এইরূপ ভ্রমণ-বৃত্তান্তের বাঙ্গলা পাণ্ডুলিপির আরও দুই একখানির কথা জানি। প্রাচীন বাঙ্গলা-গষ্ঠের নমুনা হিসাবে এই রোজ-নামচা খানির একটা