পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবন-প্ৰভাতে WOVO) আশুতোষের ক্ৰোধ একটু গুরুতর ভাবে প্ৰকাশ পাইল। তখন র্তাহার বয়স ৪৷৫ বৎসর,-তিনি একটা লোহার ডাণ্ডা অত্যন্ত উত্তপ্ত করিয়া হেমন্তকুমারকে উহার গরম দিকটা দুই হাতে শক্ত করিয়া ধরিতে আহবান করিলেন। তার পর বালকের ভীষণ চীৎকারে যখন বাড়ীর সকলে ব্যস্ত-সমস্ত হইয়া সেইখানে উপস্থিত হইলেন, তখন অবস্থা যে কিরূপ সঙ্গিন হইয়া দাড়াইয়াছে, তাহা বুঝিতে পারিয়া বালক আশুতোষ পলাইয়া গিয়া একটা গাড়ীর ভিতরে আশ্রয় লইলেন এবং ধ্যানস্থ যোগীর মত ভয়ে মৌনী হইয়া রহিলেন । হেমন্তকুমারের হাতে প্ৰলোপের ব্যবস্থার পরে সকলে আশুতোষকে চীৎকার করিয়া ডাকিতে লাগিলেন, কিন্তু ভীত ও আড়ষ্ট আশুতোষের নিকট হইতে কোন সাড়া পাওয়া গেল না | সকলে যখন প্রকৃতই র্তাহার জন্য উদ্বিগ্ন হইয়া ছুটাছুটি করিতে লাগিলেন, তখন তাহারা গাড়ীর ভিতর হইতে সেই ক্ষুদ্র রত্নটিকে হঠাৎ আবিষ্কার করিয়া বাহির করিলেন। ১৮৬৯ হইতে ১৮৭২ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত আশুতোষ বঙ্গ-বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। আড়াই বৎসরের মধ্যে তিনি বাঙ্গলা-স্কুলের সাতটি ক্লাসের পাঠ সাঙ্গ করেন; এই সাফল্য অদ্ভুত বটে। ১৮৭২ খৃষ্টােব্দ হইতে ১৮৭৪ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত, কিঞ্চিদধিক দুই বৎসর তিনি বাড়ীতে অধ্যয়ন করেন, তৎপূর্বেই ( ১৮৬৪ খৃষ্টাব্দে ) ক্যান্সেলের 'Pleasures of Hope', পোপকৃত হোমারের ইলিয়াডের প্রথম অধ্যায় এবং মিল্টনের 'Paradise Lost’এর প্রথম ক্যাণ্টোর সমস্তই তিনি কণ্ঠস্থ বলিতে পারিতেন। যদিও ডাক্তার গঙ্গাপ্ৰসাদের দু’টি সতর্ক চক্ষু প্রহরীর মত সৰ্ব্বদা আশুতোষের প্রত্যেকটি কাজ নিয়ন্ত্রিত করিত, তথাপি পুত্রটি সর্ব বিষয়ে পিতার অনুগামী ও আজ্ঞাধীন থাকিয়াও শুধু স্বাস্থ্যের নিয়ম সম্বন্ধে সেই স্নেহশীল পিতার দৃষ্টি এড়াইয়া যাইতেন। এণ্টান্স পরীক্ষার পূর্বে অতিরিক্ত পরিমাণে পড়াশুনা করার দরুন তাঁহার কঠিন রোগ হইয়াছিল; পরীক্ষার প্রায় তিন মাস পূর্ব হইতে তাঁহার শরীরময় একজিমা দেখা দেয়, অনেক সময় তিনি নড়িতে চড়িতে অসমর্থ হইয়া বিছানায় পড়িয়া থাকিতেন ; এতৎসত্ত্বেও তিনি সাউথ সুবার্বন স্কুল হইতে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সর্বোচ্চ বৃত্তি লাভ করিয়াছিলেন। তিনি সেই বৎসর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্ব বিষয়ে সৰ্ব্বাপেক্ষা বুৎপন্ন ছাত্র ছিলেন ; তথাপি যে প্ৰথম স্থান অধিকার করিতে পারেন নাই, তাহার কারণ কঠিন পীড়া । ১৮৭৯ (t

  • {i?|-औदम