পাতা:উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র.djvu/১৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ছেলেদের মহাভারত
১৯৯

তাঁহা দেখিয়া কর্ণ বলিলেন, “আপনি কে ঠাকুর? আমার মনে হয় আপনি স্বয়ং ধনুর্বেদ বা পরশুরাম বা সূর্য বা বিষ্ণু মানুষ সাজিয়া আসিয়াছেন। আমি রাগিয়া দাঁড়াইলে ইন্দ্র আর অর্জুন ছাড়া কেহ তো আমার সঙ্গে যুদ্ধ করিতে পারে না৷”

 অর্জুন বলিলেন, “আমি ধনুর্বেদও নহি, পরশুরামও নহি। আমি সাদা-সিধা ব্রাহ্মণ, গুরুর কাছে অস্ত্র শিখিয়া তোমাকে সাজা দিতে আসিয়াছি৷”

 এ কথায় কর্ণ বলিলেন, “আপনার ব্রাহ্মণের তেজ, আপনার সঙ্গে আমি পারিব কেন? এই বলিয়া তিনি যুদ্ধ ছাড়িয়া চলিয়া গেলেন।”

 এদিকে শল্য আর ভীমে মল্লযুদ্ধ চলিয়াছে। এক একটা কিল পড়ে যেন পাহাড় ভাঙ্গি য়া পড়ে। ক্রমাগত কেবল ধুপ্‌ধাপ্, টিপটপ, ঠকাঠক্, চটাপট্ ছাড়া আর কথাই নাই। এমন সময়ে ভীম শল্যকে তুলিয়া এক আছাড় দিলেন, আর তাহা দেখিয়া ব্রাহ্মণেরা হো হো করিয়া হাসিতে লাগিলেন। কিন্তু কি আশ্চর্য, ভীম শল্যকে এমনি কাবু করিয়াও তাহাকে মারিলেন না৷

 এ সকল কাণ্ড দেখিয়া রাজামহাশয়েরা ভয়ে জড়সড়। তাঁহারা আর যুদ্ধ করিবেন কি, এখন কোনো মতে ভীম আর অর্জুনের প্রশংসা করিয়া মানে মানে ফিরিতে পারিলে বাঁচেন। কাজেই তাঁহারা বলিলেন, “বাঃ! ইহার খুব যুদ্ধ করিয়াছেন! যে সে লোক তো কর্ণ আর শল্যকে আঁটিতে পারে না। ইহারা ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণ হাজার দোষী হইলেও তাঁহাকে মাপ করিতে হয়। ইহাদের সহিত আমাদের যুদ্ধ করিয়া কাজ নাই, যদিও দরকার হইলে অবশ্য আমরা একটা কাণ্ডকারখানা করিয়া ফেলিতে পারিতাম!”

 তাহা শুনিয়া কৃষ্ণ বলিলেন, “রাজামহাশয়েরা ঠিক বলিয়াছে। ইহারা উচিত মতেই রাজকন্যাকে পাইয়াছে, ইহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিয়া আপনাদের কাজ নাই৷”

 কাজেই তখন রাজারা চলিয়া গেলেন৷

 এদিকে কুন্তী সেই কুমারের ঘরে বসিয়া ভাবিতেছেন, “পুত্রেরা কেন এখনো ভিক্ষা লইয়া ঘরে ফিরিল না? দুষ্ট ধৃতরাষ্ট্রের লোকেরা কি তাহাদিগকে মারিয়া ফেলিল, না রাক্ষসেরা তাঁহাদের কোনো অনিষ্ট করিল?”

 এমন সময় ভীম আর অর্জুন আসিয়া বাহির হইতে বলিলেন, “মা! আজ ভিক্ষায় গিয়া বড় সুন্দর জিনিস আনিয়াছি৷”

 কুন্তী ভিতরে ছিলেন, দেখিতে পান নাই। তিনি বেশি না ভাবিয়াই বলিলেন, “যাহা পাইয়াছ, তাহা তোমাদের সকলেরই হউক৷”

 বলিতে বলিতেই দেখেন ওমা! কি সর্বনাশ! এতো সাধারণ জিনিস নহে, এযে রাজকন্যা!

 এখন উপায়? কুন্তী যে ‘সকলেরই হউক’ বলিয়া বসিয়াছে, এখন উপায় কি? এ কথা মিথ্যা হইয়া গেলে কুন্তীর পাপ হয়। সত্য হইতে হইলে পাঁচ ভাই মিলিয়া দ্রৌপদীকে বিবাহ করিতে হয়৷

 পাণ্ডবেরা বলিলেন, “তাহাই হউক। দ্রৌপদীকে আমরা সকলে মিলিয়া বিবাহ করিব, তবু মায়ের কথা মিথ্যা হইতে দিব না৷”

 তাঁহাদের এইরূপ কথাবার্তা ঠিক হইয়াছে, এমন সময় কৃষ্ণ আর বলরাম সেইখানে আসিয়া উপস্থিত। কৃষ্ণকে দেখিয়া যুধিষ্ঠির বলিলেন, “কি আশ্চর্য আমরা এখানে লুকাইয়া