পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (তৃতীয় বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


oе ঐতিহাসিক চিত্র। তাহাদের নাম সুফি, কারণ আরবীতে সুফ বলিতে এক প্রকার পশমী বস্ত্ৰ বুঝায় ; দরবেশগণ সাধারণতঃ এই পরিচ্ছদ পরিধান করেন। হাফেজ সুফি ছিলেন। তিনি কোরাণের বাহ্যিক ক্রিয়া পদ্ধতি মানিতেন। না। কবিন্ধের সম্বাদ এতই মধুর এবং তা হাতে কবিকে এতই মোহিত করিয়া রাখে যে, কবিগণ সাধারণতঃ জাগতিক সম্মান বা ঐশ্বৰ্য্য বিভ্রাটের প্রত্যাশী হন। না। হাফেজের কথা তাহাই । দৌলত সাহ বলিয়াছেন,-“হাফেজ বিদ্যা ও বুদ্ধিতে নরকুলচুড়ামণি ছিলেন, তাহার সময়ে তিনি এক অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন। পৃষ্ঠাহার ভাষা এতই মধুর যে, তাহা মানবের সমালোচনার আয়ত্তাধীন হইত না।” তিনি সাদরে দারিদ্রকে আলিঙ্গন করিয়াছিলেন। মহম্মদ স্বয়ং বলিয়াছিলেন “দারিদই আমার গৌরব।” হাফেজ ও স্বকীয় দরিদ্র জীবন লইয়া এতই গৌরবান্বিত থাকিতেন যে, সৰ্ব্বদাই বিলাসবিভ্রাটের আবাসস্থল दछ्रेहङ १८द्र ९रिका ठन । জন্মভূমি শিরাজ হাফেজের নিকট অতীব প্রিয় ছিল। তাহার কবিতায় সর্বত্র ইহার পরিচয় আছে। শিরাজ ও ইস্পাহান প্ৰভৃতি স্থানের শাসনকর্তৃগণ র্তাহার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। সাহমুজা ও সাহিমনসুর ইহাদের মধ্যে প্ৰধান। হাফেজের প্রধান বন্ধু ও পুণ্ঠপোষক হাজি কিয়ামুদ্দীন নামক এক ব্যক্তির যত্নে কোরাণ সরিফের মন্মার্থ শিক্ষা দিবার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। হাফেজ উহাতে অধ্যাপক নিযুক্ত হন। সামসুদ্দীন মহম্মদ সম্ভবতঃ এইজন্যই ‘হাফেজ’ উপাধি গ্ৰহণ করেন ; কারণ কোরাণ যাহারা কণ্ঠস্থ করিতে পারেন, তাহাদিগকে হাফেজ বলিত । “দিবান” বা দেওয়ানই হাফেজের সর্ব প্রধান গ্ৰন্থ । ইহা বহুসংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গীতি কবিতা বা উচ্ছাস-মালার সমষ্টি । এই ক্ষুদ্র কবিতার নাম ‘গজল”, প্ৰত্যেক গজলে ৫ হইতে ১৬টি বায়েত বা শ্লোক অর্থাৎ ১০ হইতে ৩২ পংক্তি পৰ্য্যন্ত থাকে, এবং প্ৰতোক শ্লোকের দ্বিতীয়পাদে একই প্ৰকার মিল থাকে। প্রায় সকল কবিতাগুলিরই শেষ দুই চরণের মধ্যে কোন স্থানে কবির “হাফেজ’” নামের ভণিতা थांक । ५है গজলসমূহ কবির জীবদ্দশায়ই