কমলাকান্তের পত্র
দিলে। হেডমাষ্টার গোপালকে ছুটি দিয়ে বাড়ী যেতে বল্লেন। গোপালের সেই ছুটীতেই ছুটি। সে অবধি “বাহাদুরী কার?” গোপালকে এই প্রশ্ন করলে গোপাল বলত—“তাই ত, কার বাহাদুরী? কে জানে কার? যার তারই হবে।”—ইত্যাকার অসংলগ্ন প্রশ্ন করতে করতে আপনার অন্তরের মধ্যে ডুবে তলিয়ে যেত।
নসীবাবু বল্লেন—‘গোপাল, বাহাদুরী কা'র বুঝতে পেরেছ?'
গোপাল নিরুত্তর থেকে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললে; তার মুখে একটা নিদারুণ বিহ্বলতার ভঙ্গী ফুটে উঠল । তা’কে আর কোন প্রশ্ন করা চলল না।
নসীবাবু। মধু, আজ গঙ্গাস্নানে যাবে না?
মধুসূদন দাস, জাতিতে মুচি, বললে — “বাবু, আমাকে রাগাবেন না”; সে কিন্তু তা’র আগেই রাগে গর গর করতে সুরু করেছে।
নসীবাবু। চট কেন, মধুসুদন? এত লোক গঙ্গাস্নান করে, পতিতপাবনী গঙ্গা, গঙ্গায় নাইবে না ত কোথায় নাইবে?
মধু। এজ্ঞে, তা জাননা? বাবু, ছাস্তর জাননা? শোন, হদে লাইবে, লদে লাইবে, পকুরে লাইবে, ডোবায় লাইবে, পাতকোয় লাইবে, দামোদরে লাইবে, রূপলারাণে লাইবে,—গঙ্গায় লাইবে না, ছরস্বতীতে লাইবে না, পদ্মায় লাইবে না,— মেয়ে মানুষকে মাথার করবে? ছ্যা:
নসীবাবু। মধু, গঙ্গা যে মহাদেবের জটায় ছিলেন তা জান ত? মহাদেব কেমন করে' মাথায় কল্লেন?
৫৪