পাতা:করিম সেখ - জলধর সেন.pdf/২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৬ করিম সেখ এই বলিয়া করিম ভাত বাড়িতে লাগিল। দুই প্ৰহরের ভাত ও কুমড়ার তরকারি ছিল। করিম তাহাই দুইটা মাটীর পাত্রে বিভক্ত করিল। তাহার পর সে একবার চকিত দৃষ্টিতে বসিরের দিকে চাহিল। বসির তখন অন্ধকারাচ্ছন্ন নদীর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া একমনে বাড়ীর কথাই ভাবিতেছিল। করিম অতি সতর্কভাবে নৌকার পার্শ্বে একটা স্থানে হাত দিল, অতি সাবধানে ছোট একটা কাগজের মোড়ক বাহির করিল। সেই মোড়কের মধ্যে গুড়ার মত কি একটু ছিল, তাহার সমস্তটাই একভাগ । তরকারীর সহিত মিশাইয়া দিল এবং সেই ভাগটা বসিরের ভাতের উপর দিয়া বলিল, “বসির ভাই ভাত খাও, তুমি আজ অমন হোলে কেন ?” বসির সে কথার কোন উত্তর না দিয়া অন্যমনস্কভাবে তাহার মৃৎপাত্ৰখানি কোলের কাছে টানিয়া লইল। দুই তিন গ্ৰাস ভাত খাইয়াই বসির বলিল, “করিম ভাই, তরকারীটা এমন কেন ? আমার যে গলার মধ্যে জ্বলিয়া উঠিল, আমার যে”—আর তাহার কথা সরিল না । সে নৌকার উপর শুইয়া পড়িল । করিম বলিল, “বসির ভাই, ও কি ? তুমি শুয়ে পড়লে কেন ?” বসির আর কোন কথা বলিতে পারিল না ; গলার মধ্য হইতে গোঁ গো শব্দ উঠিতে লাগিল, এবং সে হাত পা ছুড়িতে লাগিল। করিম নির্বাক হইয়া তাহার আবাল্য বন্ধুর মৃত্যু-যন্ত্রণা দেখিতে লাগিল; সে একবার বসিরের হাতখানিও ধরিল না, একটা সান্থনার কথাও বলিল না ; মূৰ্ত্তিমান সল্পতান তখন তাহার স্কন্ধে ভর করিয়াছিল। বসির আর অধিকক্ষণ হাত পা নাড়িতে পারিল না। পাপিষ্ঠ করিম তরকারীর সহিত বিষ প্রয়োগ করিয়াছিল ;