পাতা:কল্পদ্রুম তৃতীয় খণ্ড.djvu/৩৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

৩৩৪ | কল্পদ্রুম। দিয়া যাবজ্জীবন পেটভ্যতায় আমার স্ত্রীর কন্না করিতে থাক। একাদশীর দিনের ত কথাই নাই, কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী প্রভৃতি যোগ পাইলে সব ভোগাশ। ছাড়িয়া সংযমী যোগীর ন্যায় সমস্ত দিন আমার সংসারে আমার ছেলে মেয়ে কোলে করিয়া যোগাভ্যাস করিও । তীর্থধৰ্ম্ম করিতে পার, কিন্তু গাড়ি পান্ধি চড়িয়া যাইও না, কেন না “ যানারোহণ করিলে হিন্দুবিধবারা নরকে যায় শাস্ত্রে এই কথা বলে ! এতদ্বারা যেমন তুমি এক দিকে নরকযন্ত্রণ হইতে রক্ষা পাইবে আমিও তেমনি বাচিয়া যাইব, পয়সা খরচ হইবে না । কখন “ কেশ সংস্কার বা গাত্রমার্জন করিও না, ” “ তৈল ব্যবহার করিও ন৷ ” “ দর্পণে মুখ দেখিবে না “ পরপুরুষের মুখাবলোকন করিবে না, ” মহোৎসবাদিতে নৃত্যগীতাদি দেখিবে না ও শুনিবে না “ আমার বাটতে বার মাসে তের পাৰ্ব্বণ হইবে বটে, কিন্তু ভাগিনি! তুমি অনবরত কঁদিবে না, তাহা হইলে আমার আমোদ প্রমোদ, যাত্র তামাসার ব্যাঘাত হইবে, একটু সাহসী হইবে, গ্রামস্থ সধবা রমণীগণ মুন্দর বসন ভূষণে বিভূষিত হইয়া আমার বাটতে নিমন্ত্রণ খাইতে আসিবে, তুমি কোমর বাধিয়া রান্নাবান্না কর, পরিবেশন কর, চক্ষের জলে নাকের জলে ভেজ, উপবাস করিয়া যন্ত পার হোচট খাও, বিষম খাও, লাথি ফেট খাইয়া ক্ষুধা তৃষ্ণ নিবারণ করিয়া তপস্বিনী ব্রহ্মচারিণী হইয়া দিব্য বৈধব্যব্রত পালন করিতে থাক । হায় কি অবিচার! কি নিদারুণ শিষ্টাচার! কি ভ্রষ্টাচার ! কি শাস্ত্রান্ধতা ! কি ভয়ানক স্বার্থপরতা ! আমি জিজ্ঞাসা করি, এবম্বিধ অন্যান্য শত শত কঠোর নিয়ম আছে, সে সমস্ত পালন করিয়া কয়জন হিন্দু বিধবা বৈধব্যব্রত পালন করিতে সক্ষম ? দি তাহ সম্পূর্ণরূপে সাধন করিবার যে নাই, অবসর নাই, শিক্ষা নাই, "কেবলমাত্র সামান্য একাদশীয় উপবাস করিয়া বৈধব্যানলে নিরীহ অবলাকুলকে দগ্ধ করা কেন ? তাহাদের দুঃখের উপর দুঃখ বৃদ্ধি করা কেন ? তাহাদের দ্বারা কি সমাজ কোন উপকার লাভ করে নাই ? যদি করিয়া থাকে, তাহার কি এই প্রত্যুপকার হইল ? কেহ কেহ বলেন যে মৃত-পতিক স্ত্রীর পুনঃ পরিণয় হইলে অসতীত্ব একোষ স্পর্শ হয়। তাহাকে সাধী স্ত্রী বলা যায় না। ভাল ! পত্নীবিয়োগে পতি যদি অপর স্ত্রীর পাণিগ্রহণ করে তাহা হইলে পুরুষের পক্ষে কি ঐরাপ ব্যভিচার দোষ ঘটিতে পারে না ? ব্যভিচার কাহাকে বলে?