পাতা:কাদম্বরী.djvu/১১৯

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১১৫
কাদম্বরী।

অচেতন হইয়া ছিন্নমূল তরুর ন্যায় ভূতলে পতিত হইল। তাহার সঙ্গিগণ কাতর স্বরে হা হতোঽস্মি! বলিয়া শব্দ করিয়া উঠিল। তাহাদের মুখে শুনিলাম তিনি আপনার মিত্র। এই বলিয়া লজ্জায় অধোমুখী হইয়া মহাশ্বেতা রোদন করিতে লাগিলেন।

 চন্দ্রাপীড় নয়ননিমীলন পূর্ব্বক মহাশ্বেতার কথা শুনিতেছিলেন; কথা সমাপ্ত হইলে কহিলেন, ভগবতি! এ জন্মে কাদম্বরীসমাগম ভাগ্যে ঘটিয়া উঠিল না। জন্মান্তরে যাহাতে সেই প্রফুল্ল মুখারবিন্দ দেখিতে পাই এরূপ যত্ন করিও। বলিতে বলিতে তাঁহার হৃদয় বিদীর্ণ হইল। যেমন শিলাতল হইতে ভূতলে পড়িতেছিলেন, অমনি তরলিকা মহাশ্বেতাকে ছাড়িয়া শশব্যস্তে হস্ত বাড়াইয়া ধরিল এবং কাতর স্বরে কহিল, ভর্ত্তৃদারিকে! দেখ দেখ কি সর্ব্বনাশ উপস্থিত! চন্দ্রাপীড় চৈতন্যশূন্য হইয়াছেন। মৃত দেহের ন্যায় গ্রীবা ভগ্ন হইয়া পড়িতেছে। নেত্র নিমীলিত হইয়াছে। নিশ্বাস বহিতেছে না। জীবনের কোন লক্ষণ নাই। একি দুর্দ্দৈব!—একি সর্ব্বনাশ!—হা দেব, কাদম্বরীপ্রাণবল্লভ! কাদম্বরীর কি দশা ঘটিল। এই বলিয়া তরলিকা মুক্ত কণ্ঠে রোদন করিয়া উঠিল। মহাশ্বেতা সসম্ভ্রমে চন্দ্রাপীড়ের প্রতি চক্ষু নিক্ষেপ করিলেন এবং সেইরূপ অবস্থা দেখিয়া হতবুদ্ধি ও চিত্রিতের ন্যায় নিশ্চেষ্ট হইয়া রহিলেন। আঃ—পাপীয়সি, দুষ্টতাপসি! কি করিলি, জগতের চন্দ্র হরণ করিলি, মহারাজ তারাপীড়ের সর্ব্বস্ব অপহৃত হইল, মহিষী বিলাসবতীর সর্ব্বনাশ উপস্থিত হইল, পৃথিবী অনাথা হইল। হায় এত দিনের পর উজ্জয়িনী শূন্য হইল! এক্ষণে প্রজারা কাহার মুখ নিরীক্ষণ করিবে, আমরা কাহার শরণাপন্ন হইব? এ কি বিনা মেঘে বজ্রাঘাত? চন্দ্রাপীড় কোথায়? মহারাজ এই কথা জিজ্ঞাসা করিলে আমরা কি উত্তর দিব। পরিচারকেরা হা হতোঽস্মি! বলিয়া উচ্চৈঃস্বরে এই রূপে বিলাপ করিয়া উঠিল। ইন্দ্রায়ুধ চন্দ্রাপীড়ের প্রতি দৃষ্টিপাত