পাতা:কাদম্বরী.djvu/১৩৭

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৩৩
কাদম্বরী।

কিয়ৎদিন পরে অচ্ছোদ সরোবরের তীরে উপস্থিত হইলেন। তথা হইতে কাদম্বরী ও মহাশ্বেতার নিকট অগ্রে সংবাদ পাঠাইয়া পরে আপনারা আশ্রমে উপস্থিত হইলেন। গুরুজনের আগমনে লজ্জিত হইয়া মহাশ্বেতা মন্দিরের অভ্যন্তরে প্রবেশিলেন। কাদম্বরী শোকে বিহ্বল হইয়া মূর্চ্ছাপন্ন হইলেন। নব কিসলয়ের ন্যায় কোমল শয্যায় শয়ন করিয়াও পূর্ব্বে যাঁহার নিদ্রা হইত না, তিনি এক্ষণে এক প্রস্তরের উপর পতিত হইয়া মহানিদ্রায় অভিভূত হইয়াছেন দেখিয়া, মহিষীর শোকের আর পরিসীমা রহিল না। বারংবার আলিঙ্গন, মুখচুম্বন ও মস্তক আঘ্রাণ করিয়া, হা হতাস্মি বলিয়া উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করিতে লাগিলেন। রাজা বারণ করিয়া কহিলেন, দেবি! জন্মান্তরীণ পুণ্যফলে চন্দ্রাপীড়কে পুত্ত্ররূপে প্রাপ্ত হইয়াছিলাম বটে; কিন্তু ইনি দেবমূর্ত্তি, এ সময়ে স্পর্শ করা উচিত নয়। পুত্ত্র কলত্রাদির বিরহই যাতনাবহ। আমরা স্বচক্ষে চন্দ্রাপীড়ের আনন্দজনক মুখচন্দ্র দেখিতে পাইলাম, আর দুঃখ সন্তাপ কি? যাঁহার প্রভাবে বৎস পুনর্জীবিত হইবেন, যাঁহার প্রভাবে পরিণামে শ্রেয়ঃ হইবে, এক্ষণে একমাত্র অবলম্বন, তোমার বধূ সেই গন্ধর্ব্বরাজপুত্ত্রী শোকে জ্ঞানশূন্যা হইয়াছেন দেখিতেছ না? যাহাতে ইঁহার চৈতন্যোদয় হয় তাহার চেষ্টা পাও! কই! বধূ কোথায়? বলিয়া রাণী সসম্ভ্রমে কাদম্বরীর নিকটে গেলেন এবং ধরিয়া তুলিয়া ক্রোড়ে বসাইলেন। বধূর মুখশশী মহিষী যত বার দেখেন ততই নয়নযুগল হইতে অশ্রুজল নির্গত হয়। তখন বিলাপ করিয়া কহিলেন, আহা! মনে করিয়াছিলাম চন্দ্রাপীড়ের বিবাহ দিয়া পুত্ত্রবধূ লইয়া পরম সুখে কালক্ষেপ করিব, কিন্তু জগদীশ্বরের কি বিড়ম্বনা, পরমপ্রীতিপাত্র সেই বধূর বৈধব্যদশা ও তপস্বিবেশ দেখিতে হইল। হায়! যাহাকে রাজভবনের অধিকারিণী করিব ভাবিয়াছিলাম, তাহাকে বনবাসিনী ও নিতান্ত দুঃখিনী দেখিতে হইল। এই বলিয়া বারংবার বধূর মুখ চুম্বন করিতে লাগিলেন। রাণীর অশ্রুজল ও পাণিতল স্পর্শে