পাতা:কাদম্বরী.djvu/৬১

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৫৭
কাদম্বরী।

হইয়াও অজ্ঞের ন্যায় কি জিজ্ঞাসা করিতেছ! এই মাত্র উত্তর দিয়া রোদন করিতে লাগিলেন। তাঁহার সেইরূপ অবস্থা ও আকার দেখিয়া স্থির করিলাম, এক্ষণে উপদেশ দ্বারা ইঁহার কোন প্রতিকার হওয়া সম্ভব নহে। কিন্তু অসন্মার্গপ্রবৃত্ত সুহৃদ্‌কে কুপথ হইতে নিবৃত্ত করা সর্ব্বতোভাবে কর্ত্তব্য কর্ম্ম। যাহা হউক, আর কিছু উপদেশ দিই। এই স্থির করিয়া তাঁহাকে বলিলাম, সখে! হাঁ আমি সকলই অবগত হইয়াছি; কিন্তু ইহাই জিজ্ঞাসা করি, তুমি যে পদবীতে পদার্পণ করিয়াছ উহা কি সাধুসঙ্গত? কি ধর্ম্মশাস্ত্রোপদিষ্ট পথ? কি তপস্যার অঙ্গ? কি স্বর্গ ও অপবর্গ লাভের উপায়? এই বিগর্হিত পথ অবলম্বন করা দূরে থাকুক এরূপ সঙ্কল্পকেও মনে স্থান দেওয়া উচিত নয়। মূঢ়েরাই অনঙ্গপীড়ায় অধীর হয়। নির্ব্বোধেরাই হিতাহিত বিবেচনা করিতে পারে না। তুমিও কি তাহাদিগের ন্যায় অসৎ পথে প্রবৃত্ত হইয়া সাধুদিগের নিকট উপহাসাস্পদ হইবে? সাধুবিগর্হিত পথ অবলম্বন করিয়া সুখাভিলাষ কি? পরিণামবিরস বিষয়ভোগে যাহারা সুখ প্রাপ্তির আশা করে, ধর্ম্মবুদ্ধিতে বিষলতাবনে তাহাদিগের জলসেক করা হয়, তাহারা কুবলয়মালা বলিয়া অসিলতা গলে দেয়, মহারত্ন বলিয়া জ্বলন্ত অঙ্গার স্পর্শ করে, মৃণাল বলিয়া মত্ত হস্তীর দন্ত উৎপাটন করিতে যায়, রজ্জু বলিয়া কালসর্প ধরে। দিবাকরের ন্যায় জ্যোতি ধারণ করিয়াও খদ্যোতের ন্যায় আপনাকে দেখাইতেছ কেন? সাগরের ন্যায় গম্ভীরস্বভাব হইয়াও উন্মার্গপ্রস্থিত ও উদ্বেল ইন্দ্রিয়স্রোতের সংযম করিতেছ না কেন? এক্ষণে আমার কথা রাখ, ক্ষুভিতচিত্তকে সংযত কর, ধৈর্য্য ও গাম্ভীর্য্য অবলম্বন করিয়া চিত্তবিকার দূর করিয়া দেও।

 এইরূপ উপদেশ দিতেছি এমন সময়ে ধারাবাহী অশ্রুবারি তাঁহার নেত্রযুগল হইতে গলিত হইল। আমার হস্ত ধারণ পূর্ব্বক বলিলেন, সখে! অধিক কি বলিব, আশীবিষবিষের ন্যায় বিষম কুসুমশরের শরসন্ধানে পতিত হও নাই, সুখে উপদেশ দিতেছ!