পাতা:কাদম্বরী.djvu/৮১

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৭৭
কাদম্বরী৷

পুত্র, নাম চন্দ্রাপীড়। দিগ্বিজয়বেশে আমাদের দেশে উপস্থিত হইয়াছেন। দর্শনমাত্র আমার নয়ন ও মন হরণ করিয়াছেন; কিন্তু কি রূপে হরণ করিয়াছেন তাহা বুঝিতে পারি নাই। প্রজাপতির কি চমৎকার নির্ম্মাণকৌশল! এক স্থানে সমুদায় সৌন্দর্য্যের সুন্দররূপ সমাবেশ করিয়াছেন। ইনি বাস করেন বলিয়া মর্ত্ত্যলোক এক্ষণে সুরলোক হইতেও গৌরবান্বিত হইয়াছে। তুমি কখন সকল বিদ্যার ও সমুদয় গুণের এক স্থানে সমাগম দেখ নাই, এই নিমিত্ত অনুরোধবাক্যে বশীভূত করিয়া ইঁহাকে এখানে আনিয়াছি। তোমার কথাও ইঁহার সাক্ষাতে বিশেষ করিয়া বলিয়াছি। তুমি অদৃষ্টপূর্ব্ব এই লজ্জা পরিত্যাগ করিয়া, অপরিচিত এই অবিশ্বাস দূর করিয়া, অজ্ঞাতকুলশীল এই শঙ্কা পরিহার করিয়া, অসঙ্কুচিত ও নিঃশঙ্ক চিত্তে সুহৃদের ন্যায় ইঁহার সহিত বিস্রম্ভ আলাপ কর। এই বলিয়া মহাশ্বেতা চন্দ্রাপীড়ের পরিচয় দিয়া দিলেন। মহাশ্বেতা ও কাদম্বরী এক পর্য্যঙ্কে উপবেশন করিলেন। রাজকুমার অন্য এক সিংহাসনে বসিলেন। কাদম্বরীর সঙ্কেত মাত্র বেণুরব, বীণাশব্দ ও সঙ্গীত নিবৃত্ত হইল। মহাশ্বেতা স্নেহসংবলিত মধুর বচনে কাদম্বরীর অনাময় জিজ্ঞাসা করিলেন। কাদম্বরী বলিলেন, সকল কুশল।

 মনোভাবের কি অনির্ব্বচনীয় প্রভাব! প্রণয়পরাঙ্মুখ ব্যক্তির অন্তঃকরণও উহার প্রভাবের অধীন হইল। কাদম্বরীর নিরুৎসুক চিত্তেও অনুরাগ অজ্ঞাতসারে প্রবেশিল। তিনি মহাশ্বেতার সহিত কথা কহেন ও ছলক্রমে এক এক বার চন্দ্রাপীড়ের প্রতি কটাক্ষপাত করেন। মহাশ্বেতা উভয়ের ভাব ভঙ্গি দ্বারা উভয়ের মনোগত ভাব অনায়াসে বুঝিতে পারিলেন। কাদম্বরী তাম্বূল দিতে উদ্যত হইলে কহিলেন, সখি! চন্দ্রাপীড় আগন্তুক, আগন্তুকের সম্মান করা অগ্রে কর্ত্তব্য; চন্দ্রাপীড়ের হস্তে অগ্রে তাম্বূল প্রদান করিয়া অতিথিসৎকার কর, পরে আমরা ভক্ষণ করিব। কাদম্বরী ঈষৎ হাস্য করিয়া মুখ ফিরাইয়া আস্তে আস্তে কহিলেন, প্রিয়-