পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/১৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ইতি বৃহস্পতি বিরচিতং সরস্বতী স্তোত্রং সমাপ্তম।।

 ধনের প্রয়াস আছে ব্রাম্ভণের মনে।
 চর পাঠাইয়া তত্ব লহ এইক্ষণে।।
 এত বলি রাজগণ বিচার করিয়া।
 অর্জ্জুনের স্থানে দূত দিল পাঠাইয়া।।
 দুত বলে অবধান কর দ্বিজবর।
 রাজগণ পাঠাইল তোমার গোচর।।
 দুর্য্যোধন রাজা এই কহেন তোমায়।
 মুখ্যপাত্র করি তোমা রাখিব সভায়।।
 বহু রাজ্য দেশ ধন নানা রত্ন দিব।
 একশত দ্বিজকন্যা বিবাহ করাব।।
 আর যাহা চাহ দেব নাহিক অন্যথা।
 মোরে বশ কর দিয়া দ্রুপদ-দুহিতা।।
 শুনিয়া অর্জ্জুন জ্ব্লিলেন অগ্নিপ্রায়।
 দুই চক্ষু রক্তবর্ণ বলেন তাহায়।।
 ওহে দ্বিজ যেই মত বলিলা বচন।
 অন্য জাতি নহ তুমি অবধ্য ব্রাম্ভণ।।
 সে কারণে মম ঠাঁই পাইলে জীবন।
 এ কথা কহিয়া অন্যে বাঁচে কোন জন।।
 আর তাহে দূত তুমি কি দোষ তোমার।
 মম দূত হ'য়ে তুমি যাহ পুনর্ব্বার।।
 দুর্য্যোধন আদি যত কহ রাজগণে।
 অভিলাষ তা সবার থাকে যদি মনে।।
 আমি দিব তা সবারে পৃথিবী জিনিয়া।
 কুবেরের নানা রত্ন দিব যে আনিয়া।।
 তোমা সবাকার ভার্য্যা মোরে দেহ আনি।
 এই কথা সবা স্থানে কহিবা আপনি।।
 শুনিয়া সওঅরে তবে গেল দ্বিজবর।
 কহিল বৃত্তান্ত সবে রাজার গোচর।।
 জ্বলন্ত অনলে যেন ঘৃত দিলে জ্বলে।
 ইহা শুনি রাজগণ ক্রোধভরে বলে।।
 দেখ হেন মতিচ্ছন্ন হৈল বামনার।
 হেন বুঝি লক্ষ্য বিন্ধি করে অহঙ্কার।।
 রাজগণে এতাদৃশ বচন কুৎসিত।
 দিবার উচিত হয় শাস্তি সমুচিত।।
 প্রাণ আশা থাকিতে কহিবে কোন্ জন।
 রাজগণে এতাদৃশ কুৎসিত বচন।।
 বিপ্রজাতি বলিয়া মনেতে কর দাপ।
 হেন জনে মারিলে নাহিক কিছু পাপ।।
 এ হেন দুর্ব্বাক্য বলে কার প্রাণে সহে।
 বিশেষ এ স্বয়ম্বর ব্রাম্ভণের নহে।।
 ক্ষত্র স্বয়ংবরে ইথে দ্বিজের কি কাজ।
 দ্বিজ হৈয়া কন্যা লবে ক্ষত্রকুলে লাজ।।
 এমত কহিয়া যদি রহিবে জীবণ।
 এইমত দুষ্ট হবে যত দ্বিজগণ।।
 সে কারণে ইহারে যে ক্ষমা করা নয়।
 অন্য স্বয়ম্বরে যেন এমত না হয়।।
 দেখহ দুর্দ্দৈব্য এই দ্রুপদ রাজার।
 আমা সবা নাহি মানে ক'রে অহঙ্কার।।
 মহারাজগণে ত্যাজি বরিল ব্রাম্ভণে।
 এমত কুৎসিত কর্ম্ম সহে কার প্রাণে।।
 অমর কিন্নর নরে যে কন্যা বাঞ্ছিত।
 দরিদ্র ব্রাম্ভণে দিবে একি অনুচিত।।
 মারহ দ্রুপদে আজি পুত্রের সহিত।
 মার এই ব্রাম্ভণেরে বধে নাহি ভীত।।
 মহাভারতের কথা অমৃত-সমান।
 কাশীরাম কহে সদা শুনে পূণ্যবাণ্।।
    ------
 দ্বিজগণের সহিত ক্ষত্রগণের যুদ্ধ।
   প্রলয়ের কালে যেন উথলে সাগর।
 মার মার শব্দে ডাকে যত নৃপবর।।
 যুধিষ্ঠিরে চাহিয়া বলেন দ্বিজ সব।
 চলহ সত্বর উঠ, উঠ দ্বিজসব।।
 আপনি মরিলা সব দ্বিজে দুঃখ দিলে।
 মারিবার হেতু দুষ্টে সঙ্গে এনেছিলে।।
 ক্ষত্রিয়ের কর্ম্ম কিবা ব্রাম্ভণের শোভে।
 রাজকন্যা দেখি লক্ষ্য বিন্ধিবেক লোভে।।
 পলাও পলাও হেথা নাহি প্রয়োজন।
 ওই শুন দ্বিজে মার ডাকে ক্ষত্রগণ।।
 প্রাণ ল'য়ে পলাইল যতেক ব্রাম্ভণ।
 উর্দ্ধ মুখে ধাইয়া পলায় মুনিগণ।।
 মার্কণ্ড, কৌণ্ড, ব্যাস, পুলস্ত দুর্ব্বাসা।
 গর্গ পরাশর ধায় মুখে নাহি ভাষা।।