এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪০
কাহাকে?

 কথাটা বোধ করি অতিরিক্ত তীক্ষ্ণ হইয়াছিল, বলিয়াই আমি অনুতপ্ত হইলাম। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করিয়া রহিলেন—তাহার পর বলিলেন—“আমি ফাঁকি দিই নি, যদি বিবাহ করতুম তাহলেই বরঞ্চ ফাঁকি দেওয়া হ’ত। কেননা আমি তাকে কোন জন্মেই ভালবাসতে পারতুম না।”

 “তবে engaged হলেন কেন?”

 “ঠিক engaged হই নি তবে তবে-একটা ভুল বোঝা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সে আমার দোষ নয়। বলতে ইচ্ছা ছিল না কিন্তু তুমি যখন এতদূর শুনেছ, না বলেও উপায় নেই।”

 বলা বাহুল্য তিনি যাহা বলিলেন তাহাতে সেই ইংরাজ ললনারই উপর বর্ত্তমান সমাজ প্রথায় দোষ অধিক পৌঁছায়। সেই তাঁহাকে প্রথমে অনুরাগ দেখাষ্টয়াছিল—তাঁহাকে তাহাদের বাড়ীতে ক্রমাগত যাইতে বলিত, না গেলে দুঃখ করিত, কোথাও যাইবার আবশ্যক হইলে তাঁহার সঙ্গ প্রার্থনা করিত ইত্যাদি ইত্যাদি। একজন পুরুষের পক্ষে এরূপ আহ্বান উপেক্ষা করা নিতান্ত অসৌজন্য কাজ, তিনি তাই এইরূপে তাহার ফাঁদে পড়িয়া গেলেন, অবশেষে যখন বুঝিলেন তাহার প্রত্যাশা বড় অধিক, সে বিবাহ আশা করে, তখন ক্রমশঃ সরিয়া পড়িলেন। তাঁহার কথার এই সারমর্ম্ম। জানিনা এই বিবরণে অন্য সকলে সেই মুগ্ধা অভিযুক্ত রমণীকে কিরূপ দৃষ্টিতে দেখিতেছেন, আমার কিন্তু এ কথায় তাহার উপর বরঞ্চ মমতা হইল এবং অভিযোগীর উপর যে বড় শ্রদ্ধা বাড়িল—তাহাও নহে।

 আমি বলিলাম “কিন্তু আপনি তাকে ভুল বুঝতে দিলেন কেন? আপনার পক্ষে যা flirtation তার পক্ষে তা