পাতা:কাহিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৩০

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
২৭
গান্ধারীর আবেদন


একত্রে আছিনু বদ্ধ পাণ্ডবে কৌররে,
কলঙ্ক যেমন থাকে শশাঙ্কের বুকে
কর্মহীন গর্বহীন দীপ্তিহীন সুখে।
সুখে ছিনু, পাণ্ডবের গাণ্ডীবটংকারে
শঙ্কাকুল শত্রুদল আসিত না দ্বারে।
সুখে ছিনু, পাণ্ডবেরা জয়দৃপ্ত করে
ধরিত্রী দোহন করি ভ্রাতৃপ্রীতিভরে
দিত অংশ তার-নিত্যনব ভােগসুখে
আছিনু নিশ্চিন্তচিত্তে অনন্ত কৌতুকে।
সুখে ছিনু, পাণ্ডবের জয়ধ্বনি যবে
হানিত কৌরবকর্ণ প্রতিধ্বনিরবে।
পাণ্ডবের যশােবিম্বপ্রতিবিম্ব আসি
উজ্জ্বল অঙ্গুলি দিয়া দিত পরকাশি
মলিন কৌরবকক্ষ। সুখে ছিনু, পিতঃ,
আপনার সর্বতেজ করি নির্বাপিত
পাণ্ডবগৌরবতলে স্নিগ্নশান্তরূপে,
হেমন্তের ভেক যথা জড়ত্বের কুপে।
আজি পাণ্ডুপুত্রগণে পরাভব বহি
বনে যায় চলি- আজ আমি সুখী নহি,
আজ আমি জয়ী।
ধৃতরাষ্ট্র
ধিক্ তাের ভ্রাতৃদ্রোহ!
পাণ্ডবের কৌরবের এক পিতামহ,
সে কি ভুলে গেলি?