পাতা:কাহিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৩৪

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৩১
গান্ধারীর আবেদন

মাের পাদপীঠতলে। ‘দুর্যোধন পাপী’
‘দুর্যোধন ক্রুরমনা’ ‘দুর্যোধন হীন’
নিরুত্তরে শুনিয়া এসেছি এতদিন-
রাজদণ্ড স্পর্শ করি কহি মহারাজ,
আপামর জনে আমি কহাইব আজ,
‘দুর্যোধন রাজা। দুর্যোধন নাহি সহে
রাজনিন্দা-আলােচনা, দুর্যোধন বহে
নিজহস্তে নিজনাম।’

ধৃতরাষ্ট্র
ওরে বৎস, শোন্‌,
নিন্দারে রসনা হতে দিলে নির্বাসন
নিম্নমুখে অন্তরের গুঢ় অন্ধকারে
গভীর জটিল মূল সুদূর প্রসারে,
নিত্য বিষতিক্ত করি রাখে চিত্ততল।
রসনায় নৃত্য করি চপল চঞ্চল
নিন্দা শ্রান্ত হয়ে পড়ে, দিয়াে না তাহারে
নিঃশব্দে আপন শক্তি বৃদ্ধি করিবারে
গােপন হৃদয়দুর্গে। প্রীতিমন্ত্রবলে
শান্ত করো, বন্দী করো নিন্দাসর্পদলে
বংশীরবে হাস্যমুখে।
দুর্যোধন
অব্যক্ত নিন্দায়
কোনাে ক্ষতি নাহি করে রাজমর্যাদায়;