পাতা:কাহিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৫২

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৪৯
গান্ধারীর আবেদন


এ মণিমঞ্জীর তোরে? রত্নললাটিকা
এ যে তাের সৌভাগ্যের বজ্রানলশিখা।
তােরে হেরি অঙ্গে মাের ত্রাসের স্পন্দন
সঞ্চারিছে, চিত্তে মাের উঠিছে ক্রন্দন—
আনিছে শঙ্কিত কর্ণে তাের অলংকার
উন্মাদিনী শংকরীর তাণ্ডরঝংকার
ভানুমতী
মাতঃ, মােরা ক্ষত্রনারী, দুর্ভাগ্যের ভয়
নাহি করি। কভু জয়, কভু পরাজয়-
মধ্যাহ্নগগনে কভু, কভু অস্তধামে
ক্ষত্রিয়মহিমাসূর্য উঠে আর নামে।
ক্ষত্রবীরাঙ্গনা, মাতঃ, সেই কথা স্মরি
শঙ্কার বক্ষেতে থাকি সংকটে না ডরি
ক্ষণকাল। দুর্দিন-দুর্যোগ যদি আসে
বিমুখ ভাগ্যেরে তবে হানি উপহাসে
কেমনে মরিতে হয় জানি তাহা দেবী,
কেমনে বাঁচিতে হয় শ্রীচরণ সেবি
সে শিক্ষাও লভিয়াছি।
গান্ধারী
বৎসে, অমঙ্গল
একেলা তোমার নহে। লয়ে দলবল
সে যবে মিটায় ক্ষুধা, উঠে হাহাকার,
কত বীররক্তস্রোতে কত বিধবার
অশ্রুধারা পড়ে আসি-রত্ন-অলংকার

8