পাতা:কাহিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৮৮

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৮৫
কর্ণকুন্তীসংবাদ


তােমার দক্ষিণ হস্ত ললাটে চিবুকে
রাখাে ক্ষণকাল! শুনিয়াছি লােকমুখে,
জননীর পরিত্যক্ত আমি। কতবার
হেরেছি নিশীথস্বপ্নে, জননী আমার
এসেছেন ধীরে ধীরে দেখিতে আমায়-
কাঁদিয়া কহেছি তাঁরে কাতর ব্যথায়
‘জননী, গুণ্ঠন খােলো, দেখি তব মুখ’-
অমনি মিলায় মূর্তি তৃষার্ত উৎসুক
স্বপনেরে ছিন্ন করি! সেই স্বপ্ন আজি
এসেছে কি পাণ্ডবজননীরূপে সাজি
সন্ধ্যাকালে, রণক্ষেত্রে, ভাগীরথীতীরে!
হেরো দেবী, পরপারে পাণ্ডবশিবিরে
জ্বলিয়াছে দীপালােক, এ পারে অদূরে
কৌরবের মন্দুরায় লক্ষ অশ্বখুরে
খর শব্দ উঠিছে বাজিয়া। কালি প্রাতে
আরম্ভ হইবে মহারণ। আজ রাতে
অজুর্নজননীকণ্ঠে কেন শুনিলাম
আমার মাতার স্নেহস্বর! মাের নাম
তাঁর মুখে কেন হেন মধুর সংগীতে
উঠিল বাজিয়া- চিত্ত মাের আচম্বিতে
পঞ্চপাণ্ডবের পানে ‘ভাই’ বলে ধায়!

কুন্তী


তবে চলে আয়, বৎস, তবে চলে আয়।