প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


♥ጓ8 গল্পগুচ্ছ 'তে পরিহাসের কড়া সবাদ নেই। সেইজন্য ইদানীং নীহারের হঠাৎ সংস্কৃত আবাত্তিকে ভালো লাগাবার চেষ্টা করত। f এমন সময়ে একটা ঘটনা ঘটল যাতে ছাত্রছাত্রীদের মিলেমিশে কাজ করবার একটা সংযোগ হল। সবন ইউনিভাসিটির একজন ভারতপ্রত্নতত্ত্ববিদ পণ্ডিত আসবেন কলকাতা ইউনিভাসিটির নিমন্ত্রণে। ছেলেমেয়েরা ঠিক করেছিল পথের মধ্যে থেকে তারাই তাঁকে অভ্যর্থনা করার গৌরব সব প্রথমে লটে নেবে। আগে ভাগে অধ্যাপকের কাছে গিয়ে তাঁকে ওদের প্রগতিসংঘের নিমন্ত্রণ জানালে। তিনি ফরাসী সৌজন্যের আতিশয্যে এই নিমন্ত্রণ স্বীকার করে নিলেন। তার পরে কে তাঁর অভিনন্দন পাঠ করবে, সেটা ওরা ভালো করে ভেবে পাচ্ছিল না। কেউ বলছিল সংস্কৃত ভাষায় বলবে, কেউ বলছিল ইংরেজি ভাষাই যথেষ্ট—কিন্তু তা কারও মনঃপত হল না। ফরাসী পণ্ডিতকে ফরাসী ভাষায় সম্মান প্রকাশ করাই উপযুক্ত ঠিক করল। কিন্তু করবে কে। বাইরের লোক পাওয়া যায়, কিন্তু সেটাতে তো সম্মান রক্ষা হয় না। এমন সময়ে নীহাররঞ্জন বলে উঠল, “আমার উপর যদি ভার দাও, আমি কাজ চালিয়ে নিতে পারব এবং ভালো রকমেই পারব।” মেয়েদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল যাদের নীহাররঞ্জনের উপর বিশেষ টান, তারা বললে—দেখা যাক-না। সরীতির বিশেষ আপত্তি, সে বললে— একটা ভাঁড়ামি হয়ে উঠবে। দলের মেয়েরা বললে, “আমরা বিদেশী, যদি বা আমাদের ভাষায় কিংবা বস্তৃতায় কোনো ত্রুটি হয় তা ফরাসী অধ্যাপক নিশ্চয়ই হাসিমুখে মেনে নেবেন। ওঁরা তো আর ইংরেজ নন, ইংরেজরা বিদেশীদের কাছ থেকেও নিজেদের আদবকায়দার স্খলন সইতে পারেন না, এমন ঔদের অহংকার। কিন্তু ফরাসীদের তা নয়, বরঞ্চ যদি কিছু অসম্পণে থাকে সেটা হেসে গ্রহণ করবে। দেখা যাক-না— নীহাররঞ্জনের বিদ্যের দৌড় কতদরে। শুনেছি ও ঘরে বসে বসে ফরাসী পড়ার চর্চা করে।” নীহাররঞ্জনের বাড়ি চন্দননগরে। প্রথম বয়সে ফরাসী স্কুলে তার বিদ্যাশিক্ষা, সেখানে ওর ভাষার দখল নিয়ে খাব খ্যাতি পেয়েছিল, এ-সব কথা ওর কলকাতার বন্ধা-মহল কেউ জানত না। যা হোক, সে তো কোমর বোধে দাঁড়ালো। কী আশচয", অভিনন্দন যখন পড়ল তার ভাষার ছটায় ফরাসী পণ্ডিত এবং তাঁর দু-একজন অনচের আশ্চর্য হয়ে গেলেন। তাঁরা বললেন– এ রকম মাজি'ত ভাষা ফ্রান্সের বাইরে কখনো শোনেন নি। বললেন, এ ছেলেটির উচিত প্যারিসে গিয়ে ডিগ্রি অজ’ন করে আসা। তার পর থেকে ওদের কলেজের অধ্যাপকমন্ডলীতে ধন্য ধন্য রব উঠল; বললে—কলেজের নাম রক্ষা হল, এমন-কি কলকাতা ইউনিভারসিটিকেও ছাড়িয়ে গেল খ্যাতিতে । এর পরে নীহারকে অবজ্ঞা করা কারও সাধোর মধ্যে রইল না। নীহারদা' নীহারদা গঞ্জেনধর্মনিতে কলেজ মুখরিত হয়ে উঠল। প্রগতিসংঘের প্রথম নিয়মটা আর টেকে না। পরষদের মন ভোলাবার জন্য রঙিন কাপড়-চোপড় পরা ওরা ত্যাগ করেছিল। সব-প্রথমে সে নিয়মটি ভাঙল সরীতি, রঙ লাগালো তার অচিলায়। আগেকার বিরদ্ধে ভাব কাটিয়ে নীহাররঞ্জনের কাছে ঘোষতে তার সংকোচ বোধ হতে লাগল, কিন্তু সে সংকোচ বাকি টেকে না। r