প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


めゲー Jr. গল্পগুচ্ছ জানো তো মT/* বিবাহের সম্বন্ধ যখন হল তখন ছেলেটি খাব বক ফলিয়ে এল আসরে, বাজনাবান্দি সমারোহের অন্ত ছিল না। কাকা হাত জোড় করে বললে, “বাবাজি, এত ধামধাম করা ভালো হচ্ছে না, সময় খুব খারাপ।" শনে সে আবার ভগ্নিপতির পত্রদের আপধা করে বললে, “দেখা যাবে কেমন সে কাছে ঘেষে ।” কাকা বললে, “বিবাহ-অনুষ্ঠান পর্যন্ত মেয়ের দায় আমাদের, তার পর মেয়ে এখন তোমার—তুমি ওকে নিরাপদে বাড়ি পৌছবার দায় নাও। আমরা এ দায় নেবার যোগ্য নই, আমরা দলবল ।” ও বািক ফলিয়ে বললে, “কোনো ভয় নেই।” ভোজপুরী দারোয়ানরা গোঁফ চাড়া দিয়ে দাঁড়ালে সব লাঠি হাতে। কন্যা নিয়ে চললেন বর সেই বিখ্যাত মাঠের মধ্যে, তালতড়ির মাঠ। মধ্যমোল্লার ছিল ডাকাতের সদার। সে তার দলবল নিয়ে রাত্রি যখন দুই প্রহর হবে, মশাল জৰালিয়ে হকি দিয়ে এসে পড়ল। তখন ভোজপরীদের বড়ো কেউ বাকি রইল না ; মধ্যমোল্লার ছিল বিখ্যাত ডাকাত, তার হাতে পড়লে পরিত্রাণ নেই। কমলা ভয়ে চতুদোলা ছেড়ে ঝোঁপের মধ্যে লকোতে যাচ্ছিল এমন সময় পিছনে এসে দাঁড়ালো বন্ধ হবির খাঁ, তাকে সবাই পয়গম্বরের মতোই ভক্তি করত। হবির সোজা দাঁড়িয়ে বললে, “বাবাসকল তফাত যাও, আমি হবির খাঁ।” ডাকাতরা বললে, “খাঁ সাহেব, আপনাকে তো কিছু বলতে পারব না কিন্তু আমাদের ব্যবসা মাটি করলেন কেন।” যাই হোক তাদের ভঙ্গ দিতেই হল। হবির এসে কমলাকে বললে, “তুমি আমার কন্যা। তোমার কোনো ভয় নেই, এখন এই বিপদের জায়গা থেকে চলো আমার ঘরে।” কমলা অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে উঠল। হবির বললে, “বুঝেছি তুমি হিন্দ ব্রাহ্মণের মেয়ে, মসলমানের ঘরে যেতে সংকোচ হচ্ছে। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো— যারা যথার্থ মুসলমান, তারা ধমনিষ্ঠ ব্রাহ্মণকেও সম্মান করে, আমার ঘরে তুমি হিন্দবাড়ির মেয়ের মতোই থাকবে। আমার নাম হবির খাঁ। আমার বাড়ি খাব নিকটে, তুমি চলো, তোমাকে আমি খুব নিরাপদে রেখে দেব।” কমলা ব্রাহ্মণের মেয়ে, সংকোচ কিছলতে যেতে চায় না। সেই দেখে হবির বলল, “দেখো, আমি বেচে থাকতে এই তল্লাটে কেউ নেই যে তোমার ধাম হাত দিতে পারে তুমি এসো আমার সঙ্গে, ভয় কোরো না।" 螺 হবির খাঁ কমলাকে নিয়ে গেল তার বাড়িতে। আশ্চর্য এই মসলমান বাড়ির আট-মহলা বাড়ির এক মহলে আছে শিবের মন্দির আর হিন্দুয়ানির সমস্ত ব্যবস্থা । একটি বন্ধ হিন্দ ব্রাহ্মণ এল। সে বললে, “মা, হিন্দরে ঘরের মতো এ জায়গা তুমি জেনো, এখানে তোমার জাত রক্ষা হবে।” কমলা কে’দে বললে, “দয়া করে কাকাকে খবর দাও তিনি নিয়ে যাবেন।” হবির বললে, “বাছা, ভুল করছ, আজ তোমার বাড়িতে কেউ তোমাকে ফিরে