প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছোটো গল্প tyపిసి এখানে আসবার আগে মা বললেন, “ভালো কাজ পেয়েছ, এবার বাবা বিয়ে করো ।” আমি বললাম, “অর্থাৎ, ভালো কাজ মাটি করো।” তার পরে বোবা পাথরকে প্রশ্ন করে করে বেড়াচ্ছিলাম পাহাড়ে জঙ্গলে। সে সময়টাতে পলাশফলের রাঙা রঙে বনে বনে নেশা লেগে গিয়েছে। শালগাছে অজস্র মঞ্জরী, মৌমাছিদের অনবরত গঙ্গেন। ব্যাবসাদারেরা মেী সংগ্রহে লেগেছে, কুলের পাতা থেকে জমা করছে তসব-রেশমের গুটি, সাঁওতালরা কুড়চ্ছে পাকা মহীয়া ফল। ঝিরঝির শব্দে হালকা নাচের ওড়না ঘুরিয়ে চলেছিল একটি ছিপছিপে নদী। শুনেছি এখানকার কোনো অধিবাসিনী তার নাম দিয়েছেন তনিকা। তাঁর কথা পরে হবে। দিনে দিনে বুঝতে পারছি এ জায়গাটা ঝিমিয়ে-পড়া ঝাপসা চেতনার দেশ, এখানে একলা মনের সন্ধান পেলে প্রকৃতি মায়াকিনী তাকে নিয়ে রঙরেজিনীর কাজ করে, যেমন করে সে অস্তসযের উত্তরাঁয়ে। মনটাতে একটা আবেশের ঘোর লাগছিল। ক্ষণে ক্ষণে ঢিলে হয়ে আসছিল কাজের চলে। নিজের উপর বিরক্ত হচ্ছিলাম, ভিতর থেকে কষে জোর লাগাচ্ছিলম দাঁড়ে। ভয় হচ্ছিল ট্রপিকাল মাকড়সার জালে জড়িয়ে পড়ছি বুঝি। শয়তান ট্রপিকস জন্মকাল থেকে এ দেশে হাতপাখার হাওয়ায় ডাইনে বাঁয়ে হারের মন্ত্র চালাচ্ছে আমাদের ললাটে, মনে-মনে পণ করছি এর বেদসিক্ত জাদ এড়াতেই হবে। বেলা পড়ে এল। এক জায়গায় মাঝখানে চর ফেলে নড়ি পাথর ঠেলে ঠেলে দলই শাখায় ভাগ হয়ে চলে গিয়েছে নদী। সেই বালর বীপে সতৰ হয়ে বসে আছে সারি সারি বকের দল। দিনাবসানে তাদের এই ছয়টির ছবি দেখে রোজ আমি চলে যাই আমার কাজের বাঁক ফেরাতে। ঝুলিতে মাটি পাথর অভ্রের টুকরো নিয়ে সেদিন ফিরছিল.ম আমার বাংলাঘরে, ল্যাববেটরিতে পরীক্ষার কাজে। অপরাহু আর সন্ধ্যার মাঝখানে দিনের যে একটা ফালতো পোড়ো সময় থাকে সেইখানটাতে একলা মানুষের মন এলিয়ে পড়ে। তাই আমি নিজেকে চেতিয়ে রাখবার জন্যে এই সময়টা লাগিয়েছি পরখ করার কাজে । ডাইনামো দিয়ে বিজলি বাতি জালাই— কেমিকাল নিয়ে, মাইক্রসকোপ নিয়ে, নিক্তি নিয়ে বসি। এক-একদিন রাত দরপর পেরিয়ে যায়।" আজ একটা পরোনো পরিত্যন্ত তামার খনির খবর পেয়ে দ্রুত উৎসাহে তারই সন্ধানে চলেছিলাম। কাকগুলো মাথার উপর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলেছে ফিকে আলোর আকাশে কা কা শব্দে। অদরে একটা টিবির উপরে তাদের পঞ্চায়েত বসবার পড়েছে হাঁকডাক । হঠাৎ বাধা পড়ল আমার কাজে ; রাস্তায় । পাঁচটা গাছের চক্রমন্ডলী ছিল বনের পথের ধারে একটা উচু ডাঙার পরে। সেই বেষ্টনীর মধ্যে কেউ বসে থাকলে কেবল একটিমাত্র অবকাশে তাকে দেখা যায়, হঠাৎ চোখ এড়িয়ে যাবারই কথা। সেদিন মেঘের মধ্যে দিয়ে একটি আশ্চৰ্য দীপ্তি বিচ্ছুরিত হয়েছিল। সেই গাছগুলোর ফাঁকটার ভিতর দিয়ে রাঙা আলোর ছোরা চিরে ফেলেছিল ভিতরকার ছায়াটাকে।