প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছোটো গল্প y>ళలి উচ্ছসিত হচ্ছে সৃষ্টির আদিম প্রাণের মন্ত্রগঞ্জেরণ। দিনে দপুরে ঝাঁ ঝাঁ করে ওঠে তার সরে উদাত্ত পদায়, রাতে দপরে তার মন্ত্ৰগম্ভীর ধৰনি পন্দিত হতে থাকে জীবচেতনায়, বধিকে দেয় আবিস্ট করে। জিয়লজি-চৰ্চার ভিতরে ভিতরেই মনের আন্তভেীম প্রদেশে ব্যাপ্ত হচ্ছিল এই আরণ্যক মায়ার কাজ। হঠাৎ পস্ট হয়ে উঠে সে এক মহেনতে আমার দেহমনকে আবিষ্ট করে দিল, যখনই দেখলাম অচিরাকে কুসুমিত ছায়ালোকের পরিবেস্টনে । বাঙালি মেয়েকে ইতিপবে দেখেছি সন্দেহ নেই। কিন্তু তাকে এমন বিশাখ স্বপ্রকাশ স্বাতন্ত্র্যে দেখি নি। লোকালয়ে যদি এই মেয়েটিকে দেখতুম তা হলে যাকে দেখা যেত নানা লোকের সঙ্গে নানা সম্বন্ধে জড়িত বিমিশ্রিত, এ মেয়ে সে নয়; এ দেখা দিল পরিবিস্তৃত নিজন সবুজ নিবিড়তার পরিপ্রেক্ষিতে একান্ত স্বকীয়তায় । মনে হল না বেণী দলিয়ে এ কোনো কালে ডায়োসিশনে পসেপ্টেজ রাখতে গেছে, শাড়ির উপরে গাউন ঝুলিয়ে ডিগ্রি নিতে গেছে কনভোকেশনে, বালিগঞ্জে টেনিসপাটিতে চা ঢালছে উচ্চ কলহাস্যে। অলপ বয়সে শনেছি পরোনো বাংলা গান মনে রইল সই মনের বেদনা— তারই সরল সরের সঙ্গে মিশিয়ে চিরকালের বাঙালি মেয়ের একটা করণে চেহারা আমি দেখতে পেতুম। অচিরাকে দেখে মনে হল সেইরকম বারোয়া গানে তৈরি বাণীমতি, যে গান রেডিয়োতে বাজে না, গ্রামোফোনে পাড়া মখের করে না। এ দিকে আমার আপনার মধ্যে দেখলাম মনের নীচের তলাকার তপ্তবিগলিত একটা প্রদীপ্ত রহস্য হঠাৎ উপরের আলোতে উদগীর্ণ হয়ে উঠেছে। বুঝতে পারছি আমি যখন রোজ বিকেলে এই পথ দিয়ে কাজে ফিরেছি অচিরা আমাকে দেখেছে, অন্যমনস্ক আমি ওকে দেখি নি। নিজের চেহারা সম্প্রবন্ধে যে বিশ্বাস এনেছি বিলেত থেকে, এই ঘটনা সম্পকে মনের মধ্যে তার প্রতিক্লিয়া যে হয় নি তা বলতে পারি নে। কিন্তু সন্দেহও ছিল। বিলেত-ফেরত কোনো কোনো বন্ধর কাছে শুনেছি, বিলিতি মেয়ের রচির সঙ্গে বাঙালি মেয়ের রচি মেলে না। এরা পরষের রপে খোঁজে মেয়েলি মোলায়েম ছাঁদ। বাঙালি কাতিক আর যাই হোক কোনো কালে দেবসেনাপতি ছিল না। এটা বলতে হবে আমাকেও ময়রে চড়ালে মানাবে না। এতদিন এ-সব আলোচনা আমার মনের ধার দিয়েও যায় নি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে আমাকে ভাবিয়েছে। রোদে পোড়া আমার রঙ, লম্ববা আমার দেহ, শক্ত আমার বাহন, দ্রুত আমার চলন, নাক চিবকে কপাল নিয়ে খাব পষ্ট রেখায় অাঁকা আমার চেহারা— আমি নবনানিন্দিত কষিতকাঞ্চনকান্তি বাঙালি মায়ের আদরের ধন নই। আমার নিকটবতিনী বঙ্গানারীর সঙ্গে আমি মনে মনে ঝগড়া করেছি—একলা ঘরের কোণে বক ফলিয়ে বলেছি, তোমার পছন্দ পাই আর নাই পাই এ কথা নিশ্চয় জেনো তোমার দেশের চেয়ে বড়ো বড়ো দেশের স্বয়ম্বরসভার বরমাল্য উপেক্ষা করে এসেছি।’ এই বানানো বাগড়ার উলমায় একদিন হেসে উঠেছি আপন ছেলেমানবিতে। আবার এ দিকে বিজ্ঞানীর যাভিও কাজ করেছে ভিতরে ভিতরে। আপন মনে তক করেছি, একান্ত নিভৃতে থাকাই যদি ওর প্রাঞ্চনীয় তা হলে বারবার আমার সম্পস্ট দটিপাত এড়িয়ে এতদিনে ও তো ঠাঁই বদল করত। কাজ সেরে এ পথ দিয়ে আগে যেতুম একবার মাত্র, আজকাল যখন-তখন যাতায়াত করি, যেন এই