প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SOU গল্পগুচ্ছ নড়লেন না, ভিতরে ভিতরে আত্মপ্লানি ভোগ করলেন। আপনার পথের সামনেকার ঢেলাখানার মতো আমাকে লাথি মেরে ছাড়ে ফেলে দিলেন না কেন। কেন নিষ্ঠর হতে পারলেন না। যদি পারতেন তবে আমি ধন্য হতুম। আমার ব্রতের পারণা হত আমার কান্না দিয়ে।” মদস্বেরে বললাম, “যাবার জন্যেই কাগজপত্তর গুছিয়ে নিচ্ছিলাম।” “না, না, কখনোই না। মিথ্যে ছতো করে নিজেকে ভোলাচ্ছিলেন। যতই দেখলাম আপনার দলবলতা, ভয় হতে লাগল আমার নিজেকে নিয়ে। ছি, ছি, কী পরাভবের বিষ এনেছি নারীর জীবনে, কেবল অন্যের জন্য নয়, নিজের জন্যেও । ক্রমশই একটা চাঞ্চল্য আমাকে পেয়ে বসল, সে যেন এই বনের বিষনিশ্বাস থেকে। একদিন এখানকার পিশাচী রাত্রি এমন আমাকে আবিস্ট করে ধরেছিল যে মনে হল যে, এত বড়ো প্রবত্তিরাক্ষসীও আছে যে আমার দাদর কাছ থেকেও আমাকে ছিনিয়ে নিতে পারে। তখনই সেই রাত্রেই ছুটে নদীর জলে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে ডুব দিয়ে স্নান করে এসেছি।” এই কথা বলতে বলতে অচিরা ডাক দিল, “দাদ!" | অধ্যাপক গাছতলায় বসে পড়ছিলেন। উঠে এসে স্নেহের স্বরে বললেন, "কী দিদি। দীর থেকে বসে বসে ভাবছিলাম, তোমার উপরে আজ বাণী ভর দিয়েছেন— জল জল করছে তোমার চোখ দটি " “আমার কথা থাক, তুমি শোনো। তুমি সেদিন বলেছিলে মানুষের চরম অভিব্যক্তি তপস্যার মধ্যে দিয়ে।” “হাঁ, আমি তাই তো বলি। ববীর মানুষ জন্তুর পর্যায়ে। কেবলমাত্র তপস্যার মধ্য দিয়ে সে হয়েছে জ্ঞানী মানুষ। আরও তপস্যা আছে সামনে, স্থলে আবরণ যাগে যাগে ত্যাগ করতে করতে সে হবে দেবতা। পরোণে দেবতার কল্পনা আছে— কিন্তু দেবতা ছিলেন না অতীতে, দেবতা আছেন ভবিষ্যতে। মানুষের ইতিহাসের শেষ অধ্যায়ে ।” অচিরা বললে, “দাদা, এইবার এসো, তোমার-আমার কথাটা আপসে চুকিয়ে দিই, কদিন থেকে মনের মধ্যে তোলপাড় করছে।" আমি উঠে পড়লাম ; বললাম, “তা হলে যাই।” “না, আপনি বসন – দাদা, সেই-যে কলেজের অধ্যক্ষপদটা তোমার ছিল, সেটা খালি হয়েছে। তোমাকে ডাক দিয়েছে ওরা ।” অধ্যাপক আশচব হয়ে বললেন, “কণী করে জানলে ভাই।" "তোমার কাছে চিঠি এসেছে, সে আমি চুরি করেছি।” “চুরি করেছ।” “করব না! আমাকে সব চিঠিই দেখাও, কেবল কলেজের ছাপ-মারা ঐ চিঠিটাই দেখালে না! তোমার দরভিসন্ধি সন্দেহ করে চুরি করে দেখতে হল।” অধ্যাপক অপরাধীর মতো ব্যস্ত হয়ে বললেন, “আমারই অন্যায় হয়েছে।” “কিছর অন্যায় হয় নি। আমাকে লকোতে চেয়েছিলে যে আমার জীবনের অভিসপাত এখনও তুমি নিজের উপর টেনে নিয়ে চলবে। তোমার আপন আসন থেকে আমি যে নামিয়ে এনেছি তোমাকে। আমাদের তো ঐ কাজ।”