প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করণো పిశిషి ष्तिष्ठौङ्ग •ब्रिाहम মহেন্দু মহেন্দু এত দিন বেশ ভালো ছিল। ইস্কুলে ছাত্রবৃত্তি পাইয়াছে, কলেজে এলে, বি. এ. পাস করিয়াছে, মেডিকাল কলেজে তিন চার বৎসর পড়িয়াছে, আর কিছ দিন পড়িলেই পাস হইত—কিন্তু বিবাহ হওয়ার পর হইতেই অমন হইয়া গেল কেন। আমাদের সঙ্গে আর দেখা করিতে আসে না, আমরা গেলে ভালো করিয়া কথা কয় না— এ-সব তো ভালো লক্ষণ নয়। সহসা এরপে পরিবতন যে কেন হইল আমরা ভিতরে ভিতরে তাহার সন্ধান লইয়াছি। মল কথাটা এই কন্যাকতাদিগের নিকট হইতে অথ লইয়া মহেন্দ্রের পিতা যে কন্যার সহিত পত্রের বিবাহ দেন তাহা মহেন্দ্রের বড়ো মনোনীত হয় নাই। মনোনীত না হইবারই কথা বটে। তাহার নাম রজনী ছিল, বৰ্ণও রজনীর ন্যায় অন্ধকার; তাহার গঠনও যে কিছু উৎকৃষ্ট ছিল তাহা নয়; কিন্তু মুখ দেখিলে তাহাকে অতিশয় ভালো মানুষ বলিয়া বোধ হয়। বেচারি কখনও কাহারও কাছে আদর পায় নাই, পিত্রালয়ে অতিশয় উপেক্ষিত হইয়াছিল। বিশেষত তাহার রাপের দোষে বর পাওয়া যাইতেছে না বলিয়া যাহার তাহার কাছে তাহাকে নিগ্রহ সহিতে হইত। কখনও কাহারও সহিত মুখ তুলিয়া কথা কহিতে সাহস করে নাই। একদিন আয়না খলিয়া কপালে টিপ পরিতেছিল বলিয়া কত লোকে কত রকম ঠাট্টা বিদ্রুপ করিয়াছিল; সেই অবধি উপহাসের ভয়ে বেচারি কখনও আয়নাও খালে নাই, কখনও বেশভূষাও করে নাই। স্বামী-আলয়ে আসিল । সেখানে স্বামীর নিকট হইতে এক মহত্যের নিমিত্তও আদর পাইল না, বিবাহরাত্রের পরদিন হইতে মহেন্দ্র তাহার কাছে শইত না। এ দিকে মহেন্দু এমন বিশ্বান, এমন মদস্বেভাব, এমন সদবেন্ধ ছিল, এমন আমোদদায়ক সহচর ছিল, এমন সহদেয় লোক ছিল যে, সেও সকলকে ভালোবাসিত, তাহাকেও সকলে ভালোবাসিত। রজনীর কপাল-দোষে সে মহেন্দ্রও বিগড়াইয়া গেল। মহেন্দু পিতাকে কখনও অভক্তি করে নাই, কিন্তু বিবাহের পরদিনেই পিতাকে যাহা বলিবার নয় তাহাই বলিয়া তিরস্কার করিয়াছে। পিতা ভাবিলেন—তাঁহারই বুঝিবার ভুল, কলেজে পড়িলেই ছেলেরা যে অবাধ্য হইয়া যাইবে ইহা তো কথাই আছে। রজনীর সমুদয় বক্তান্ত শনিয়া আমার অতিশয় কষ্ট হইয়াছিল। আমি মহেন্দুকে গিয়া বঝাইলাম। আমি বলিলাম, রজনীর ইহাতে কী দোষ আছে। তাহার কুরপের জন্য সে কিছু দোষী নহে, দ্বিতীয়তঃ তাহার বিবাহের জন্য তোমার পিতাই দোষী। তবে বিনা অপরাধে বেচারিকে কেন কন্ট দাও।” মহেন্দ্র কিছুই বুঝিল না বা আমাকেও বুঝাইল না, কেবল বলিল তাহার অবস্থায় যদি পড়িতাম তবে আমিও ঐরাপ ব্যবহার করিতাম। এ কথা যে মহেন্দ্র অতি ভুল বঝিয়াছিল তাহা বঝাইবার কোনো প্রয়োজন নাই, কারণ আমার সহিত গল্পের অতি অলপই সম্প্রবন্ধ আছে। *. o: এ সময়ে মহেন্দ্রের কলেজ ছাড়িয়া দেওয়াটা ভালো হয় নাই। পোড়ো জমিতে কাঁটাগাছ জন্মায়, অব্যবহত লোঁহে মরিচা পড়ে, মহেন্দ্র এমন অবস্থায় কাজকর্ম