প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করণো షిరిలి তাঁহার শয়নগহে বোলতায় চাক করিয়াছে, ভয়ে বিব্রত হইয়া সে ঘরই পরিত্যাগ করিলেন ; সে ঘরে তিন পরিবার বোলতায় তিনটি চাক বধিল, ইন্দরে গত করিল, মাকড়সা প্রাসাদ নির্মাণ করিল এবং লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র পিপীলিকা সার বধিয়া গহময় রাজপথ বসাইয়া দিল। বালীর পক্ষে ঋষ্যমুখ পবত যেরপে, পণ্ডিতমহাশয়ের পক্ষে এই ঘরটি সেইরাপ হইয়া পড়িয়াছিল। পাঠশালায় গমনে অনিচ্ছক কোনো বালক যদি সেই গহে লুকাইত তবে আর পণ্ডিতমহাশয় তাহাকে ধরিতে পারিতেন ना | গাহের এইরুপ আলগা অবস্থা দেখিয়া পণ্ডিতমহাশয় অনেক দিন হইতে একটি গহিণীর চিন্তায় আছেন। পবেকার গহিণীটি বড়ো প্রচণ্ড সীলোক ছিলেন । নিরীহপ্রকৃতি সাবভৌম মহাশয় দিল্লীশ্ববরের ন্যায় তাঁহার আজ্ঞা পালন করিতেন। সী নিকটে থাকিলে অন্য সত্ৰীলোক দেখিয়া চক্ষ মদিয়া থাকিতেন। একবার একটি অস্টমবষীয়া বালিকার দিকে চাহিয়াছিলেন বলিয়া তাহার পত্নী সেই বালিকাটির মত পিতৃপিতামহ প্রপিতামহের নামোল্লেখ করিয়া যথেষ্ট গালি বৰণ করেন ও সাবভৌম মহাশয়ের মুখের নিকট হাত নাড়িয়া উচ্চৈঃস্বরে বলিলেন, “তুমি মরো, তুমি মরো, তুমি মরো' পণ্ডিতমহাশয় মরণকে বড়ো ভয় করিতেন, মরণের কথা শুনিয়া তাঁহার বকে ধড়াস ধড়াস করিতে লাগিল। সন্ত্রীর মৃত্যুর পর দৈনিক গালি না পাইয়া অভ্যাসদোষে দিনকতক বড়ো কষ্ট অনুভব করিতেন। যাহা হউক, অনেক কারণে পণ্ডিতমহাশয় বিবাহের চেষ্টায় আছেন। পণ্ডিতমহাশয়ের একটা কেমন অভ্যাস ছিল যে, তিনি সহস্র মিস্টানের লোভ পাইলেও কাহারও বিবাহসভায় উপস্থিত থাকিতেন না। কাহারও বিবাহের সংবাদ শুনিলে সমস্ত দিন মন খারাপ হইয়া থাকিত। পণ্ডিতমহাশয়ের এক ভট্টাচাৰ্যবন্ধ ছিলেন ; তাঁহার মনে ধারণা ছিল যে তিনি বড়োই রসিক, যে ব্যক্তি তাঁহার কথা শুনিয়া না হাসিত তাহার উপরে তিনি আন্তরিক চটিয়া যাহঁতেন। এই রসিক বন্ধ মাঝে মাঝে আসিয়া ভট্টাচাযীয় ভঙ্গি ও স্বরে সাবভৌম মহাশয়কে কহিতেন, “ওহে ভায়া, শাস্ত্রে আছে— যাবন বিন্দতে জায়াং তাবদদ্ধোভবেৎ পমান। যন্ন বালৈঃ পরিবতং মশানমিব তদগহম । কিন্তু তোমাতে তদবৈপরীতাই লক্ষিত হচ্ছে। কারণ কিনা, যখন তোমার ব্রাহ্মণী বিদ্যমান ছিলেন তখন তুমি ভয়ে আশঙ্কায় অধোক হয়ে গিয়েছিলে, সন্ত্রীবিয়োগের পর আবার দেখতে দেখতে শরীর বিগণ হয়ে উঠল। অপরন্তু শাস্ত্রে যে লিখছে বালকের বারা পরিবত না হইলে গহ মশানসমান হয়, কিন্তু বালককর্তৃক পরিবত হওয়া প্রযন্তেই তোমার গহ শমশানসমান হয়েছে।” এই বলিয়া সমীপপথ সকলকে চোখ টিপিতেন ও সকলে উচ্চৈঃস্বরে হাসিলে পর তিনি সন্তোষের সহিত মহেরেমহেব নস্য লইতেন। i . . . . ও পারের একটি মেয়ের সঙ্গে সাবভৌম মহাশয়ের সম্বন্ধ হইয়াছে। এ কয়দিন পণ্ডিতমহাশয় বড়ো মনের সফতিতে আছেন। পাঠশালার ছাঁট হইয়াছে। আজ