পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


మ98 গল্পগুচ্ছ নরেন্দ্রের নিকট হইতে এক জোড়া ফল মোজা, জরির পোশাক ও পাগড়ি চাহিয়া আনিলেন। পাড়ার দন্ট লোকেরা এই-সকল বেশ পরাইয়া তাঁহাকে সঙ সাজাইয়া দিল। ক্ষুদ্রপরিসর পাগড়িটি পণ্ডিতমহাশয়ের বিশাল মস্তকের টিকির অংশটুকু অধিকার করিয়া রহিল মাত্র, চার পাঁচটা বোতাম ছিাড়িয়া কন্টে-সন্টে পণ্ডিতমহাশয়ের উদরের বেড়ে চাপকান কুলাইল। অনেক ক্ষণের পর বেশভূষা সমাপ্ত হইলে পর সাবভৌম মহাশয় দপণে একবার মুখ দেখিলেন। জরির পোশাকের চাকচিক্য দেখিয়া তাঁহার মন বড়ো তৃপ্ত হইল। কিন্তু সেই ঢলঢলে জনতা পরিয়া, আটি সটি চাপকান গায়ে দিয়া চলিতেও পারেন না, নড়িতেও পারেন না, জড়ভরতের মতো এক পথানে বসিয়াই রহিলেন। মাথা একটা নিচু করিলেই মনে হইতেছে পাগড়ি বুঝি খসিয়া পড়িবে। ঘাড়-বেদনা হইয়া উঠিল, তথাপি যথাসাধ্য মাথা উচু করিয়া রাখিলেন। ঘণ্টাখানেক এইরুপ বেশে থাকিয়া তাঁহার মাথা ধরিয়া উঠিল, মাখ শুকাইয়া গেল, অনগাল ঘম প্রবাহিত হইতে লাগিল, প্রাণ কণ্ঠাগত হইল। পল্লীর ভদ্রলোকেরা আসিয়া অনেক বুঝাইয়া-সবাইয়া তাঁহার বেশ পরিবতন कच्नाइँठा । ভট্টাচাৰ্য মহাশয় তাঁহার অব্যবস্থিত গহ পরিক্ত ও সজিত করিবার নিমিত্ত নানা খোসামোদ করিয়া নিধিরাম ভট্টকে আহবান করিয়াছেন। এই নিধিরামের উপর পণ্ডিতমহাশয়ের অতিরিক্ত ভক্তি ছিল। তিনি বলিতেন, গাহথ্যি ব্যাপার সচাররপে সম্পন্ন করিতে নিধি তাঁহার পরাতন গৃহিণীর সমান, মকদ্দমার নানাবিধ জটিল তকে সে স্বয়ং মেজেস্টোর সায়েবকেও ঘোল পান করাইতে পারে এবং সকল বিষয়ের সংবাদ রাখিতে ও চতুরতাপবাক সকল কাজ সম্পন্ন করিতে সে কালেজের ছেলেদের সমানই হউক বা কিছু কমই হউক। চতুরতাভিমানী লোকেরা আপনার অভাব লইয়া গব করিয়া থাকে। যে ব্যক্তি গাহপথ্য ব্যবস্থার চতুরতা জানাইতে চায় সে আপনার দারিদ্র্য লইয়া গব করে, অর্থাৎ ‘অর্থের অভাব সত্ত্বেও কেমন সচোররপে সংসারের শঙ্খলা সম্পাদন করিতেছি । নিধি তাঁহার মুখতা লইয়া গব করিতেন। গল্পবাগীশ লোক মাত্রেই পণ্ডিতমহাশয়ের প্রতি বড়ো অনকেল। কারণ, নীরবে সকল প্রকারের গল্প শুনিয়া যাইতে ও বিশ্বাস করিতে পল্লীতে পণ্ডিতমহাশয়ের মতো আর কেহই ছিল না। এই গণে বশীভূত হইয়া নিধি মাসের মধ্যে প্রায় দুই শত বার করিয়া তাঁহার এক বিবাহের গল্প শনাইতেন। গল্পের ডালপালা ছটিয়া-ছাটিয়া দিলে সারমর্ম এইরুপ দাঁড়ায়— নিধিরাম ভট্ট বর্ণপরিচয় পর্যন্ত শিখিয়াই লেখাপড়ায় দাঁড়ি দিয়াছিলেন, কিন্তু চালাকির জোরে বিদ্যার অভাব পরেণ করিতেন। নিধির বিবাহ করিবার ইচ্ছা হইয়াছে, কিন্তু এমন বশর পথিবীতে নাই যে নিধির মতো গোমুখকে জানিয়া শনিয়া কন্যা সম্প্রদান করে। অনেক কৌশলে ও পরিশ্রমে পাত্রী স্থির হইল। আজ জামাতাকে পরীক্ষা করিতে আসিয়াছে। অন্বিতীয় চতুর নিধি দাদার সহিত পরামর্শ করিয়া একটি পালকি আনাইল এবং চাপকান ও শামলা পরিয়া গুটিকতক কাগজের তাড়া হাতে করিয়া কন্যা-কতাদিগের সম্মুখেই পালকিতে চড়িলেন। দাদা কহিলেন, ও নিধি, আজ যে তোমাকে দেখতে এয়েচেন। নিধি কহিলেন, ‘না দাদা, আজ সাহেব সকাল-সকাল আসবে, ঢের কাজ ঢের লেখাপড়া আছে, আজ আর হচ্ছে না।’ কন্যা