প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/১৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


જે8ર গল্পগুচ্ছ বালকের ন্যায় কাঁদিতে লাগিল। মহেন্দ্রের রোদন দেখিয়া রজনীর কী কষ্ট হইতে লাগিল, রজনীই তাহা জানে। মনে-মনে কহিল, তোমার কী হইয়াছে বলো, যদি আমার প্রাণ দিলেও তাহান্ন প্রতিকার হয় তবে আমি তাহাও দিব। রজনী আর থাকিতে পারিল না, ধীরে ধীরে ভয়ে ভয়ে মহেন্দ্রের কাছে আসিয়া বসিল। কত বার মনে করিল যে, পারে ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিবে যে, কী হইয়াছে। কিন্তু সাহস করিয়া পারিল না, মাখের কথা মুখেই রহিয়া গেল। মহেন্দু মনের আবেগে তাড়াতাড়ি শয্যা হইতে উঠিয়া গেল। রজনী ভাবিল সে কাছে আসাতেই বুঝি মহেন্দু চলিয়া গেল। আর থাকিতে পারিল না; কাতর স্বরে কহিল, "আমি চলিয়া যাইতেছি, তুমি শোও!” । মহেন্দ্র তাহার কিছই উত্তর না দিয়া অন্যমনে চলিয়া গেল। ধীরে ধীরে বাতায়নে গিয়া বসিল। তখন মেঘমন্তে চতুথীর চন্দ্রমা জ্যোৎস্না বিকীর্ণ করিতেছেন। বাতায়নের নিম্নে পঙ্করিণী। পাকরিণীর ধারের পরপরসংলগ্ন অন্ধকার নারিকেলকুঞ্জের মস্তকে অসফট জ্যোৎস্নার রজতরেখা পড়িয়াছে। অসফট জ্যোৎস্নায় পাকরিণীতীরের ছায়াময় অন্ধকার গভীরতর দেখাইতেছে। জ্যোৎস্নাময় গ্রাম যতদরে দেখা যাইতেছে, এমন শান্ত, এমন পবিত্র, এমন ঘনমন্ত যে মনে হয় এখানে পাপ তাপ নাই, দুঃখ যন্ত্রণা নাই—এক স্নেহহাস্যময় জননীর কোলে যেন কতকগুলি শিশু এক সঙ্গে ঘুমাইয়া রহিয়াছে। মহেন্দ্রের মন ঘোর উদাস হইয়া গিয়াছে। সে ভাবিল, সকলেই কেমন ঘমোইতেছে, কাহারও কোনো দুঃখ নাই, কষ্ট নাই। কাল সকালে আবার নিশিচন্তভাবে উঠিবে, আপনার আপনার কাজকমকরিবে। কেহ এমন কাজ করে নাই যাহাতে পথিবী বিদীর্ণ হইলে সে মুখ লুকাইয়া বাঁচে, এমন কাজ করে নাই যাহাতে প্রতি মহেনতে তীব্রতম অনন্তাপে তাহার মর্মে মমে শেল বিন্ধ হয়। আমিও যদি এইরুপ নিশ্চিতভাবে ঘমোইতে পারিতাম, নিশিচন্তভাবে জাগিতে পারিতাম ! আমার যদি মনের মতো বিবাহ হইত, গহন্থের মতো বিনা দুঃখে সংসারযাত্রা নিবাহ করিতে পারিতাম, সাঁকে কত ভালোবাসিতাম, সংসারের কত উপকার করিতাম ! কেমন সহজে দিনের পর রাত্রি, রাত্রের পর দিন কাটিয়া যাইত, সমস্ত রাত্রি জাগিয়া ও সমস্ত দিন ঘুমাইয়া এই বিরন্তিময় জীবন বহন করিতে হইত না। আহা— কেমন জ্যোংনা, কেমন রাত্রি, কেমন পথিবী ! অাঁধার নারিকেলব্যক্ষগুলি মাথায় একটা একটু জ্যোৎস্না মাখিয়া অত্যন্ত গভীরভাবে পরপরের মুখ-চাওয়া-চাওয়ি করিয়া আছে; যেন তাহাদের বকের ভিতর কী একটি কথা লকোনো রহিয়াছে। তাহাদের অাঁধার ছায়া অাঁধার পকেরিণীর জলের মধ্যে निaिउ ।।' মহেন্দু কতক্ষণ দেখিতে লাগিল, দেখিয়া দেখিয়া নিশ্বাস ফেলিয়া ভাবিল— আমার ভাগ্যে পথিবী ভালো করিয়া ভোগ করা হইল না।’ মহেন্দু সেই রাত্রেই গহত্যাগ করিতে মনপথ করিল, ভাবিল পথিবীতে যাহাকে ভালোবাসিয়াছে সকলকেই ভুলিয়া যাইবে । ভাবিল সে এ পর্যন্ত পথিবীর কোনো উপকার করিতে পারে নাই, কিন্তু এখন হইতে পরোপকারের জন্য তাহার স্বাধীন জীবন উৎসগা করিবে। কিন্তু গহে রজনীকে একাকিনী ফেলিয়া গেলে সে