প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/২০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কর_ণা SQ6 কিছুদিন হইতে মহেন্দু দেখিতেছেন বাড়িটা যেন শান্ত হইয়াছে। করপোর আমোদ আহমাদ থামিয়াছে। কিন্তু সে শান্তি প্রাথনীয় নহে—হাস্যময়ী বালিকা হাসিয়া খেলিয়া লাড়ির সবত্র যেন উৎসবময় করিয়া রাখিত— সে এক দিনের জন্য নীরব হইলে বাড়িটা যেন শন্য-শান্য ঠেকিত, কী যেন অভাব বোধ হইত। কয়দিন হইতে কর্ণা এমন বিষম হইয়া গিয়াছিল—সে এক জায়গায় চুপ করিয়া বসিয়া থাকিত, কাদিত, কিছুতেই প্রবোধ মানিত না। কর্ণা যখন এইরুপ বিষয় হইয়া থাকে তখন রজনীর বড়ো কষ্ট হয়— সে বালিকার হাসি আহাদ না দেখিতে পাইলে সমস্ত দিন তাহার কেমন কোনো কাজই হয় না। নরেন্দ্রের বাড়ি যাইবে বলিয়া কর্ণা মহেন্দুকে ভারি ধরিয়া পড়িয়াছে। মহেন্দু বলিল, সে বাড়ি অনেক দরে। কর্ণা বলিল, তা হোক ! মহেন্দ্ৰ কহিল, সে বাড়ি বড়ো খারাপ। কর্ণা কহিল, তা হোক! মহেন্দু কহিল, সে বাড়িতে থাকিবার জায়গা নাই। কর্ণা উত্তর দিল, তা হোক! সকল আপত্তির বিরুধে এই তা হোক শুনিয়া মহেন্দু ভাবিলেন, নরেন্দ্রকে একটি ভালো বাড়িতে আনাইবেন ও সেইখানে কর্ণাকে লইয়া যাইবেন । নরেন্দ্রের সন্ধানে চলিলেন। বাড়িভাড়া দিবার সময় হইয়াছে বলিয়াই হউক বা মহেন্দু তাঁহার বাড়ির ঠিকানা জানিতে পারিয়াছে বলিয়াই হউক, নরেন্দ্র সে বাড়ি হইতে উঠিয়া গিয়াছেন । মহেন্দু তাঁহার ব্যথা অন্বেষণ করিলেন, পাইলেন না। এই বাতা শুনিয়া অবধি করণার আর হাসি নাই। বিশেষ অবস্থায়, বিশেষ সময়ে, সহসা এক-একটা কথা শুনিলে যেমন বনকে আঘাত লাগে, কর্ণার তেমনি আঘাত লাগিয়াছে। কেন, এত দিনেও কি কর্ণার সহিয়া যায় নাই। নরেন্দ্র কর্ণার উপর কত শত দব্যেবহার করিয়াছে, আর আজ তাহার এক পথানান্তর সংবাদ পাইয়াই কি তাহার এত লাগিল। কে জানে, কর্ণার বড়ো লাগিয়াছে। বোধ হয় ক্ৰমাগত জালাতন হইয়া হইয়া তাহার হদয় কেমন জীণ হইয়া গিয়াছিল, আজ এই একটি সামান্য আঘাতেই ভাঙিয়া পড়িল । বোধ হয় এবার বেচারি কর্ণা বড়োই আশা করিয়াছিল যে, বুঝি নরেন্দ্রের সহিত আবার দেখা-সাক্ষাৎ হইবে। তাহাতে নিরাশ হইয়া সে পথিবীর সমুদয় বিষয়ে নিরাশ হইয়াছে, হয়তো এই এক নিরাশা হইতেই তাহার বিশ্বাস হইয়াছে তাহার আর কিছুতেই সুখ হইবে না। করুণার মন একেবারে ভাঙিয়া পড়িল— যে ভাবনা কর্ণার মতো বালিকার মনে আসা প্রায় অসম্পভব, সেই মরণের ভাবনা তাহার মনে হইল। তাহার মনে হইল এ সংসারে সে কেমন শ্রান্ত অবসন্ন হইয়া পড়িয়াছে, সে আর পারিয়া ওঠে না, এখন তাহার মরণ হইলে বাঁচে। এখন আর অধিক লোকজন তাহার কাছে আসিলে তাহার কেমন কষ্ট হয়। সে মনে করে, “আমাকে এইখানে একলা রাখিয়া দিক, আপনার মনে একলা পড়িয়া থাকিয়া মরি। সে সকল লোকের নানা জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়া উঠিতে আর পারে না। সে সকল বিষয়েই কেমন বিরক্ত উদাসীন হইয়া পড়িয়াছে। রজনী বেচার কত কাঁদিয়া তাহাকে কত সাধ্য সাধনা করিয়াছে, কিন্তু এই আহত লতাটি জন্মের মতো মিয়মাণ হইয়া পড়িয়াছে—বষার সলিলসেকে বসন্তের বায়বীজনে, আর সে মাথা তুলিতে পারবে না। ჯყ ტ