প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


bros গল্পগুচ্ছ আমেরিকার ধনসটির জাদকের বঝি খুশি হবে, এমন-কি আমার রাতা হয়তে করে দেবে প্রশস্ত। ফোর্ড চাপা হাসি হেসে বললে, “আমার নাম হেনরি ফোড়েব, পরাতন ইংরেজি নাম। আমাদের ইংলন্ডের মামাতো ভাইরা অকেজো, তাদের আমি কেজো করব—এই আমার সংকল্প। আমি ভেবেছিলাম, ভারতীয়কেও কেজো করে তুলতে উৎসাহ হতেও পারে। একটা কথা বঝেতে পারলাম, টাকাওয়ালার দরদ টাকাওয়ালাদেরই পরে। আর দেখলাম, এখানে চাকাতৈরির চক্রপথে শেখা বেশি দরে এগোবে না। এই উপলক্ষে একটা বিষয়ে চোখ খালে গেল, সে হচ্ছে এই যে, যন্ত্রবিদ্যাশিক্ষার আরও গোড়ায় যাওয়া চাই ; যন্ত্রের মালমসলা-সংগ্রহ শিখতে হবে । ধরণী শক্তিমানদের জন্যে জমা করে রেখেছেন তাঁর দাগম জঠরে কঠিন খনিজ পদার্থ, এই নিয়ে দিগ্বিজয় করেছে তারা, আর গরিবদের জন্যে রয়েছে তার উপরের স্তরে ফসল—হাড় বেরিয়েছে তাদের পাঁজরায়, চুপসে গেছে তাদের পেট। আমি লেগে গেলাম খনিজবিদ্যা শিখতে। ফোর্ড বলেছে ইংরেজ অকেজো, তার প্রমাণ হয়েছে ভারতবর্ষে – একদিন হাত লাগিয়েছিল তারা নীলের চাষে, আর-একদিন চায়ের চাষে—সিবিলিয়ানের দল দপ্তরখানায় তকমাপরা "ল অ্যানড অড'র'এর ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু ভারতের বিশাল অন্তভাণ্ডারের সম্পদ উদ্ঘাটিত করতে পারে নি, কী মানবচিত্তের, কণী প্রকৃতির। বসে বসে পাটের চাষীর রন্ত নিংড়েছে। জামশেদ টাটাকে সেলাম করেছি সমাদের ওপার থেকে। ঠিক করেছি আমার কাজ পটকা ছোড়া নয়। সি’ধ কাটতে যাব পাতালপরীর পাথরের প্রাচীরে। মায়ের-অচল-ধরা বড়ো খোকাদের দলে মিশে মা মা ধবনিতে মন্তর পড়ব না, আর দেশের দরিদ্রকে মন্তর বানাব না। প্রথম বয়সে এ রকম বচনের পতুল গড়া খেলা অনেক খেলেছি— কবিদের কুমোরবাড়িতে স্বদেশের যে রাংতা-লাগানো প্রতিমা গড়া হয়, তারই সামনে বসে বসে অনেক চোখের জল ফেলেছি। কিন্তু আর নয়, এই জাগ্রত বন্ধির দেশে এসে বাস্তবকে বাস্তব বলে জেনেই শুকনো চোখে কোমর বোধে কাজ করতে শিখেছি। এবার গিয়ে বেরিয়ে পড়বে এই বিজ্ঞানী বাঙাল কোদাল নিয়ে, কুড়ল নিয়ে, হাতুড়ি নিয়ে, দেশের গুপ্তধনের তল্লাসে—এই কাজটাকে কবির গদগদকণ্ঠের চেলারা দেশমাতৃকার পজা বলে চিনতেই পারবে না। ফোডের কারখানাঘর ছেড়ে তার পরে ন' বছর কাটিয়েছি খনিবিদ্যা খনিজবিদ্যা শিখতে। য়ারোপের নানা কেন্দ্রে ঘরেছি, হাতে কলমে কাজ করেছি, দই-একটা যন্ত্রকৌশল নিজেও বানিয়েছি—তাতে উৎসাহ পেয়েছি অধ্যাপকদের কাছে, নিজের উপরে বিশ্বাস হয়েছে, ধিককার দিয়েছি ভূতপবে মঙ্গমধে অকৃতাৰ্থ নিজেকে। আমার ছোটোগল্পের সঙ্গে এই-সব বড়ো বড়ো কথার একান্ত যোগ নেই— বাদ দিলে চলত, হয়তো ভালোই হত। কিন্তু এই উপলক্ষে একটা কথা বলার দরকার ছিল, সেটা বলি। যৌবনের গোড়ার দিকে নারীপ্রভাবের ম্যাগনেটিজমে জীবনের মের প্রদেশের আকাশে যখন অরোরার রঙিন ছটার আন্দোলন ঘটতে থাকে, তখন আমি ছিলম অন্যমনস্ক, একেবারে কোমর বেধে অন্যমনস্ক। আমি সন্ন্যাসী, আমি কম যোগী—এই-সব বাণীর স্বারা মনের আগল শক্ত করে অাঁটা ছিল। কন্যাদায়িকরা যখন আশেপাশে আনাগোনা করেছিল আমি স্পষ্ট করেই বলেছি-কন্যার কুষ্ঠিতে