প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ কথা b/SS চাই নে ঘোর জঙ্গলে পাহাড়ে গুহাগহবরে আমাকে ভ্রমণে যেতে হয়। সঙ্গে রাখি থলে ভরে চিড়ে, ছড়াকয়েক কলা, বিলিতি বেগন, কাঁচা ছোলার শাক, চিনেবাদামও কখনও থাকে। আমি সঙ্গে নিয়ে আসব ফলারের আয়োজন, অচিরা দেবী দই দিয়ে স্বহস্তে মেখে আমাকে খাওয়াবেন, এতে যদি রাজি থাকেন তা হলে কোনো কথ্য থাকবে না।” "দাদ, বিশ্বাস কোরো না এ-সব লোককে। তুমি বাংলা মাসিকে লিখেছিলে বাঙালির খাদ্যে ভিটেমিনের প্রভাব, সে উনি পড়েছেন, তাই কেবল তোমাকে খুশি করবার জন্যে চিড়েকলার ফদ তোমাকে শোনালেন।” আমি ভাবলুম মশকিলে ফেললে। বাংলা কাগজে ডাক্তারের লেখা ভিটামিনের তত্ত্ব পড়া কোনোকালে আমার স্বারা সম্ভব নয়; কিন্তু কবল করি কী করে – বিশেষত উনি যখন উৎফুল্ল হয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সেটা পড়েছেন নাকি।” আমি বললাম, "পড়ি বা না-পড়ি তাতে কিছর আসে যায় না, আসল কথা—” “আসল কথা, উনি নিশ্চয় জানেন কাল যদি ওকে খাওয়াই, তা হলে ওঁর পাতে পশুপক্ষী স্থাবরজঙ্গম কিছুই বাদ পড়বে না। সেই জন্যে অত নিশিচন্ত মনে বিলিতি বেগমনের নামকৗতন করলেন। ওঁর শরীরটার দিকে দেখো-না চেয়ে, শধ্যে শাকান্নে গড়া বলে কেউ সন্দেহ করতে পারে? দাদা, তুমি সবাইকেই অত্যন্ত বেশি বিশ্বাস কর, এমন-কি আমাকেও । সেইজন্যে ঠাট্টা করে তোমাকে কিছু বলতে সাহস করি নে।” বলতে বলতে ধীরে ধীরে আমরা ওঁদের বাড়ির দিকে চলেছি, এমন সময়ে হঠাৎ অচিরা বলে উঠল, “এইবার আপনি ফিরে যান বাসায় ।” “কেন, আমি ভেবেছিলাম আপনাদের বাড়ির দরজা পৰ্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসব।” “ঘর এলোমেলো হয়ে আছে। আপনি বলবেন, বাঙালি মেয়েরা সব অগোছালো । কাল এমন করে সাজিয়ে রাখব যে মেমসাহেবের কথা মনে পড়বে।” অধ্যাপক বললেন, “আপনি কিছ মনে করবেন না ডক্টর সেনগুপ্ত, অচি বেশি কথা কচ্ছে, কিন্তু ওর স্বভাব নয় সেটা। এখানে বড়ো নিজন বলে ও জুড়ে রাখে আমার মনকে অনগ’ল কথা কয়ে । সেটাই ওর অভ্যেস হয়ে গেছে। ও যখন চুপ করে থাকে তখনই আমার ঘরটা যেন ছমছম করতে থাকে, আমার মনটাও। ও জানে সে কথা। আমার ভয় করে পাছে ওকে কেউ ভুল বোঝে।” বড়োর গলা জড়িয়ে ধরে অচিরা বললে, “বঝেক-না দাদা, অত্যন্ত অনিন্দনীয়া হতে চাই নে, সেটা অত্যন্ত আনইন্টারেস্টিও।” অধ্যাপক সগবে বলে উঠলেন, “জানেন সেনগুপ্ত, আমার দিদি কিন্তু কথা कट्टेरठ छाप्न, अधन आभि काèरक टनथि नि ।” “তুমি আমার মতো কাউকে দেখো নি দাদা, আমিও কাউকে দেখি নি তোমার মতো।” আমি বললাম, “আচাৰ্যদেব, যাবার আগে আমাকে কিন্তু একটা কথা দিতে হবে।” “আচ্ছা বেশ ।”