প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


bf>○ গল্পগুচ্ছ তকের কোনো একটা দরহে গ্রন্থি বুঝতে পারছি কি না। তাঁর মনে হয় সমস্তই জলের মতো বোঝা যায়। কিন্তু আর তো চলবে না, কোনো ছিদ্রে আসল কথাটা পাড়তেই হবে। পিকনিকের এক অবকাশে অধ্যাপক যখন পোড়ো মন্দিরের সিড়িটাতে বসে নব্য কেমিস্ট্রির নতুন আমদানির বই পড়ছিলেন, বেটে আবলুস গাছের ঝোপের মধ্যে বসে অচিরা হঠাৎ আমাকে বললে, “এই চিরকালের বনের মধ্যে যে একটা অন্ধ প্রাণের শক্তি আছে, কমেই তাকে আমার ভয় করছে।” আমি বললাম, “আশচযাঁ, ঠিক এই রকমের কথা সেদিন আমি আমার ডায়ারিতে व्लिार्धाछ् ।” . অচিরা বলে চলল, “পরেনো ইমারতের কোনো-একটা ফাটলে লুকিয়ে লুকিয়ে অশথের একটা অঙ্কুর ওঠে, তার পরে শিকড়ে শিকড়ে জড়িয়ে ধ'রে তার সর্বনাশ করে, এও তেমনি। দাদর সঙ্গে এই কথাটাই হচ্ছিল। দাদ বলছিলেন, লোকালয় থেকে বহুদিন একান্ত দরে থাকলে মানবচিত্ত প্রকৃতির প্রভাবে দলবল হতে থাকে, প্রবল হয়ে ওঠে আদিম প্রাণপ্রকৃতির প্রভাব। আমি বললাম, এ রকম অবস্থায় কী করা যায়?” তিনি বললেন, মানুষের চিত্তকে আমরা তো সঙ্গে করে আনতে পারি— ভিড়ের চেয়ে নিজনে তাকে বরণ বেশি করে পাই, এই দেখো-না আমার বইগুলি।” দাদর পক্ষে বলা সহজ, কিন্তু সবাইকে এক ওষুধ খাটে না। আপনি কী বলেন।” আমি বললাম, "আচ্ছা, বলব। আমার কথাটা ঠিকমত বুঝে দেখবেন । আমার মত এই যে, এই রকম জায়গায় এমন একজন মানুষের সঙ্গ সমস্ত অন্তর বাহিরে পাওয়া চাই, যার প্রভাব মানবপ্রকৃতিকে সম্পণে করে রাখতে পারে। যতক্ষণ না পাই ততক্ষণ অন্ধশক্তির কাছে কেবলই হার ঘটতে থাকবে। আপনি যদি সাধারণ মেয়েদের মতো হতেন, তা হলে আপনার কাছে সত্য কথা শেষপর্যন্ত স্পষ্ট করে বলতে মাথে বাধত।” অচিরা বললে, “বলন আপনি, বিধা করবেন না।” বললাম, "আমি সায়ন্টিস্ট, যেটা বলতে যাচ্ছি সেটা ইপাসোনাল ভাবে বলব – আপনি একদিন ভবতোষকে অতান্ত ভালোবেসেছিলেন। আজও কি আপনি তাঁকে তেমনি ভালোবাসেন " | “আচ্ছা, মনে করুন, বাসি নে ৷” “আমিই আপনার মনকে সরিয়ে এনেছি।” “ত হতে পারে, কিন্তু একলা আপনি নন, বনের ভিতরকার এই ভীষণ অন্ধশক্তি। সেইজন্যে আমি এই সরে আসাকে শ্রদ্ধা করি নে, লতাজা পাই।" "কেন করেন না ।” “দীঘকালের প্রয়াসে মানুষ চিত্তশক্তিতে নিজের আদশকে গড়ে তোলে, প্রাণশক্তির অন্ধতা তাকে ভাঙে ! আপনার দিকে আমার যে ভালোবাসা সে সেই অন্ধশক্তির আক্রমণে ।” “ভালোবাসাকে আপনি এমন করে গঞ্জনা দিচ্ছেন নারী হয়ে ?” "নারী বলেই দিচ্ছি। ভালোবাসার আদশ আমাদের পজোর জিনিস। তাকেই বলে সতীত্ব। সতীত্ব একটা আদশ । এ জিনিসটা বনের প্রকৃতির নয়, মানবীর। এ