প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ከሦ88 গল্পগছে “চৌধুরীমশায়, ওর বিপদ হচ্ছে সারান্সে ও যত বড়ো ওস্তাদই হোক, তুমি যাকে মেট্রিয়াকি বল সে রাজ্যের ও ঘোর আনাড়ি।” “সে কথা ঠিক। ওর একবারও টিকে দেওয়া হয় নি। ছোঁয়াচ লাগলে বাঁচানো अछु इर्द ।” “রোজ একবার কিন্তু ওকে আপনার দেখে যেতে হবে।" “কোথা থেকে ও আবার ছোঁয়াচ না নিয়ে আসে। শেষকালে এ বয়সে আমি না মরি। ভয় কোরো না, মেয়েমানুষ যদিও, তবুও আশা করি ঠাট্টা বুঝতে পার। আমি পার হয়ে গেছি এপিডেমিকের পাড়াটা। এখন ছোঁওয়া লাগলেও ছোঁয়াচ লাগে না। কিন্তু একটা মুশকিল ঘটেছে। পরশ আমাকে যেতে হবে গজেরানওয়ালায়।” “এটাও ঠাট্রা নাকি ? মেয়েমানুষকে দয়া করবেন।” “ঠাট্টা নয়, আমার সতীথ অমল্য আন্ডি ছিলেন সেখানকার ডাক্তার। বিশপ চিশ বছর প্র্যাকটিস করেছেন। কিছু বিষয়সম্পত্তিও জমিয়েছেন। হঠাৎ বিধবা স্মী আর ছেলেমেয়ে রেখে মরেছেন হার্টফেল করে। দেনাপাওনা চুকিয়ে জমিজমা বেচে তাদের উদ্ধার করে আনতে হবে আমাকে। কতদিন লাগবে ঠিক জানি নে ৷” “এর উপরে আর কথা নেই।” “এ সংসারে কথা কিছরই উপরে নেই সোহিনী! নিভয়ে বলো, যা হবেই তা হোক। যারা অদষ্ট মানে তারা ভুল করে না। আমরা সায়ান্টিস্টরাও বলি অনিবার্যের এক চুল এদিক-ওদিক হবার জো নেই। যতক্ষণ কিছু করবার থাকে করো, যখন কোনোমতেই পারবে না, বোলো বাস ।” “আচ্ছা, তাই ভালো।” “যে মজুমদারটির কথা বললাম, দলের মধ্যে সে তত বেশি মারাত্মক নয়। তাকে ওরা দলে টেনে রাখে মান বাঁচাবার জন্যে। আর-যাদের কথা শুনেছি, চাণক্যের মতে তাদের কাছ থেকে শত হস্ত দরে থাকলেও ভাবনার কারণ থেকে যায়। অ্যাটনি আছে বকুবিহারী, তাকে আশ্রয় করা আর অক্টোপসকে জড়িয়ে ধরা একই কথা । ধনী বিধবার তপ্ত রক্ত এই-সব লোক পছন্দ করে। খবরটা শনে রাখো, যদি কিছ: করবার থাকে কোরো। সবশেষে আমার ফিলজফিটা মনে রেখো।" “দেখন চৌধুরীমশায়, রেখে দিন ফিলজফি। মানব না আপনার আদষ্ট, মানব না আপনার কায কারণের অমোঘ বিধান, যদি আমার ল্যাবরেটরির পরে কারও হাত পড়ে। আমি পাঞ্জাবের মেয়ে, আমার হাতে ছরি খেলে সহজে। আমি খন করতে পারি তা সে আমার নিজের মেয়ে হোক, আমার জামাই-পদের উমেদার হোক।” ওর শাড়ির নীচে ছিল কোমরবন্ধ লকোনো। তার থেকে ধী করে এক ছয়রি বের করে আলোয় ঝলক খেলিয়ে দিয়ে গেল। বললে, “তিনি আমাকে বেছে নিয়েছিলেন— আমি বাঙালির মেয়ে নই, ভালোবাসা নিয়ে কেবল চোখের জল ফেলে কান্নাকাটি করি নে। ভালোবাসার জন্যে প্রাণ দিতে পারি, প্রাণ নিতে পারি। আমার ল্যাবরেটরি আর আমার বকের কলিজা, তার মাঝখানে রয়েছে এই ছরি।” চৌধুরী বললেন, “এক সময়ে কবিতা লিখতে পারতুম, আজ আবার মনে হচ্ছে হয়তো পারি লিখতে।” “কবিতা লিখতে হয় লিখবেন, কিন্তু আপনার ফিলজফি ফিরিয়ে নিন। যা না