প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড).pdf/৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


иви গল্পগুচ্ছ ইন্সপেক্টারবাব বললেন, “নামটা কী শনতে পারি কি।” সদ, বললে, “তুমি এমন প্রশ্ন আমাকে জিজ্ঞেস করলে এর থেকে প্রমাণ হয় তোমার ডাকাত আমাকে চিনেছিল কিন্তু তুমি আজও আমাকে চেনো নি। যা হোক, আমি তাকে তোমার বহু শখের একটি হাভানা চুরট দিয়েছি। সে জালিয়ে দিব্যি সন্থে মনে পায়ের ধলো নিয়ে চুরট ফ’কতে ফ’কতে চলে গেল।” বিজয় বসে ছিলেন, লাফ দিয়ে উঠে বললেন, "বলো সে কোন দিকে গেল, কোথায় তাদের সভা হচ্ছে।” সদর উঠে ঘাড় বেকিয়ে বললে, “কণী ! এমন কথা তোমার মুখ দিয়ে বের হল। আমি তোমার স্ত্রী হয়েছি, তাই বলে কি পলিসের চরের কাজ করব। তোমার ঘরে এসে আমি যদি ধম খইয়ে বসি, তবে তুমিই বা আমাকে বিশ্বাস করবে কী করে।” ইন্সপেক্টার চিনতেন তাঁর সন্ত্রীকে ভালো করে। খুব শক্ত মেয়ে, এর জিদ কিছুতেই নরম হবে না। হতাশ হয়ে বসে নিশেবস ফেলে বললেন, “হায় রে, এমন । সযোগটাও কেটে গেল!” বসে বসে তাঁর নবাবি ছাঁদের গোঁফ-জোড়াটাতে তা দিতে লাগলেন, আর থেকে থেকে ফাঁসে উঠলেন অধৈযে"। তাঁর জন্য তৈরি দ্বিতীয় দফার খিচুড়ি তাঁর মুখে রচল না। এই গেল এই গলে্পর প্রথম পালা। দ্বিতীয় সদা স্বামীকে বললে, “কী গো, তুমি যে নত্য জড়ে দিয়েছ। আজ তোমার মাটিতে পা পড়ছে না। ডিস্ট্রিকট পলিসের সপোরিন্টেন্ডের নাগাল পেয়েছ নাকি।” “পেয়েছি বৈকি।” “কী রকম শনি।” “আমাদের যে চর, নিতাই চক্লবতী, সে ওদের ওখানে চরগিরি করে। তার কাছে শোনা গেল আজ মোচকাঠির জঙ্গলে ওদের একটা মস্ত সভা হবে। সেটাকে ঘেরাও করবার বন্দোবস্ত হচ্ছে। ভারী জঙ্গল, আমরা আগে থাকতে লুকিয়ে সাভেয়ার পাঠিয়ে তন্ন তন্ন করে সাভে করে নিয়েছি। কোথাও আর লুকিয়ে পালাবার ফাঁক থাকবে না ।” “তোমাদের বন্ধির ফাঁকের মধ্য দিয়ে বড়ো বড়ো ফটোই থাকবে। অনেক বার তো লোক হাসিয়েছ, আর কেন। এবারে ক্ষান্ত দাও।” “সে কি কথা সদ। এমন সংযোগ আর পাব না।” “আমি তোমাকে বলছি, আমার কথা শোনো— ও মোচকাঠির জঙ্গল ও-সব বাজে কথা। সে তোমাদেরই ঘরের আনাচে কানাচে ঘরেছে। তোমাদের মাখের উপরে তুড়ি মেরে দেবে দৌড়, এ আমি তোমাকে বলে দিলাম।” “তা, তুমি যদি লুকিয়ে তাদের ঘরের খবর দাও, তা হলে সবই সম্পভব হবে।” “দেখো, আমন চালাকি কোরো না। বোকামি করতে হয় পেট ভরে করো, অনেক বার করেছ, কিন্তু নিজের ঘরের বউকে নিয়ে—”