প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হালদারগোষ্ঠী *粤> যদি বনোয়ারির সহিত সপণ মিলিতে পারিত তবে তাহার হদয়ক্ষত দেখিতে দেখিতে এমন করিয়া বাড়িয়া উঠিত না। মধকে রক্ষা করিতে হইবে এই অতি সহজ কতব্যের কথাটা, চারি দিক হইতে তাড়নার চোটে, বনোয়ারির পক্ষে সত্য-সত্যই একটা খ্যাপামির ব্যাপার হইয়া উঠিল। ইহার তুলনায় অন্য সমস্ত কথাই তাহার কাছে তুচ্ছ হইয়া গেল। এ দিকে জেল হইতে নীলকন্ঠ এমন সুস্থভাবে ফিরিয়া আসিল যেন সে জামাইষষ্ঠীর নিমন্ত্রণ রক্ষা করিতে গিয়াছিল। আবার সে যথারীতি অম্পানবদনে আপনার কাজে লাগিয়া গেল। 豪 মধকে ভিটাছাড়া করিতে না পারিলে প্রজাদের কাছে নীলকণ্ঠের মান রক্ষা হয় না। মানের জন্য সে বেশি কিছ ভাবে না, কিন্তু প্রজারা তাহাকে না মানিলে তাহার কাজ চলিবে না, এইজন্যই তাহাকে সাবধান হইতে হয়। তাই মধকে তৃণের মতো উৎপাটিত করিবার জন্য তাহার নিড়ানিতে শান দেওয়া শরে হইল। এবার বনোয়ারি আর গোপনে রহিল না। এবার সে নীলকন্ঠকে পল্টই জানাইয়া দিল যে, যেমন করিয়া হউক মধকে উচ্ছেদ হইতে সে দিবে না। প্রথমত, মধরে দেনা সে নিজে হইতে সমস্ত শোধ করিয়া দিল ; তাহার পরে আর-কোনো উপায় না দেখিয়া সে নিজে গিয়া ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাইয়া আসিল যে, নীলকন্ঠ অন্যায় করিয়া মধকে বিপদে ফেলিবার উদযোগ করিতেছে। হিতৈষীরা বনোয়ারিকে সকলেই বুঝাইল, যেরপ কাণ্ড ঘটিতেছে তাহাতে কোনদিন মনোহর তাহাকে ত্যাগ করিবে। ত্যাগ করিতে গেলে যে-সব উৎপাত পোহাইতে হয় তাহা যদি না থাকিত তবে এতদিনে মনোহর তাহাকে বিদায় করিয়া দিত। কিন্তু, বনোয়ারির মা আছেন এবং আত্মীয়স্বজনের নানা লোকের নানাপ্রকার মত, এই লইয়া একটা গোলমাল বাধাইয়া তুলিতে তিনি অত্যন্ত অনিচ্ছকে বলিয়াই এখনো মনোহর চুপ করিয়া আছেন। এমনি হইতে হইতে একদিন সকালে হঠাৎ দেখা গেল, মধর ঘরে তালা বন্ধ। রাতারাতি সে যে কোথায় গিয়াছে তাহার খবর নাই। ব্যাপারটা নিতান্ত অশোভন হইতেছে দেখিয়া নীলকন্ঠ জমিদার-সরকার হইতে টাকা দিয়া তাহাকে সপরিবারে কাশী পাঠাইয়া দিয়াছে। পলিস তাহা জানে; এজন্য কোনো গোলমাল হইল না । , অথচ নীলকণ্ঠ কৌশলে গজব রটাইয়া দিল যে, মধকে তাহার সী-পত্র-কন্যা-সমেত ডুবাইয়া দেওয়া হইয়াছে। ভয়ে সকলের শরীর শিহরিয়া উঠিল এবং নীলকণ্ঠের প্রতি জনসাধারণের শ্রদ্ধা পাবের চেয়ে অনেক পরিমাণে বাড়িয়া গেল। বনোয়ারি যাহা লইয়া মাতিয়া ছিল উপস্থিতমতো তাহার শান্তি হইল। কিন্তু, সংসারটি তাহার কাছে আর পবের মতো রহিল না। বংশীকে একদিন বনোয়ারি অত্যন্ত ভালোবাসিত; আজ দেখিল, বংশী তাহার কেহ নহে, সে হালদারগোষ্ঠীর। আর, তাহার কিরণ, যাহার ধ্যানরপটি যৌবনারভের করিয়া রহিয়াছে, সেও সম্পণে তাহার নহে, সেও হালদারগোষ্ঠীর। একদিন ছিল যখন নীলকণ্ঠের ফরমাশে-গড়া গহনা তাহার এই হৃদয়বিহারিণী কিরণের গারে ঠিকমতো মানাইত না বলিয়া বনোয়ারি থংখং করিত। আজ দেখিল, কালিদাস