প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হৈমন্তী も&q এটা কি আবার একটা কথা ।” আমার বশর কহিলেন, “জানেন তো, উনি একজন প্রসিদ্ধ ডাক্তার, উহার কথাটা কি—” বাবা কহিলেন, “অমন ঢের ডাক্তার দেখিয়াছি। দক্ষিণার জোরে সকল পণ্ডিতেরই কাছে সব বিধান মেলে এবং সকল ডাক্তারেরই কাছে সব রোগের সাটিফিকেট পাওয়া যায় ।” এই কথাটা শুনিয়া আমার বশর একেবারে সন্তব্ধ হইয়া গেলেন । হৈম বুঝিল, তাহার বাবার প্রস্তাব অপমানের সহিত অগ্রাহ্য হইয়াছে। তাহার মন একেবারে কাঠ হইয়া গেল । আমি আর সহিতে পারিলাম না। বাবার কাছে গিয়া বলিলাম, "হৈমকে আমি লইয়া যাইব ।” বাবা গজিয়া উঠিলেন, “বটে রে—” ইত্যাদি ইর্তাদি। বন্ধরা কেহ কেহ আমাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছেন, যাহা বলিলাম তাহা করিলাম না কেন । সত্রীকে লইয়া জোর করিয়া বাহির হইয়া গেলেই তো হইত। গেলাম না কেন ? কেন ! যদি লোকধমের কাছে সত্যধমকে না ঠেলিব যদি ঘরের কাছে ঘরের মানুষকে বলি দিতে না পারিব, তবে আমার রক্তের মধ্যে বহযোগের যে শিক্ষা তাহা কী করিতে আছে। জান তোমরা ? যেদিন অযোধ্যার লোকেরা সীতাকে বিসজান দিবার দাবি করিয়াছিল তাহার মধ্যে আমিও যে ছিলাম। আর সেই বিসজনের গৌরবের কথা যাগে যুগে যাহারা গান করিয়া আসিয়াছে আমিও যে তাহাদের মধ্যে একজন । আর, আমিই তো সেদিন লোকরঞ্জনের জন্য স্ত্রীপরিত্যাগের গণবণনা করিয়া মাসিকপত্রে প্রবন্ধ লিখিয়াছি । বকের রক্ত দিয়া আমাকে যে একদিন দ্বিতীয় সীতাবিসজনের কাহিনী লিখিতে হইবে, সে কথা কে জানিত। পিতায় কন্যায় আর-একবার বিদায়ের ক্ষণ উপস্থিত হইল। এইবারেও দুইজনেরই মুখে হাসি। কন্যা হাসিতে হাসিতেই ভৎসনা করিয়া বলিল, “বাবা, আর যদি কখনো তুমি আমাকে দেখিবার জন্য এমন ছাটাছুটি করিয়া এ বাড়িতে আস তবে उप्राभि घटूट्र क9rाछे मिद !” বাপ হাসিতে হাসিতেই বলিলেন, “ফের যদি আসি তবে সি’ধকাটি সঙ্গে করিয়াই আসিব ।” x. ইহার পরে হৈমর মুখে তাহার চিরদিনের সেই স্নিগ্ধ হাসিটুকু আর এক দিনের জন্যও দেখি নাই। তাহারও পরে কী হইল সে কথা আর বলিতে পারিব না। শনিতেছি, মা পাত্রী সন্ধান করিতেছেন। হয়তো একদিন মার অনুরোধ অগ্রাহ্য করিতে পারিব না, ইহাও সম্ভব হইতে পারে। কারণ—থাক, আর কাজ কী । জ্যৈষ্ঠ ১৩২১