প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


tషి 5 গল্পগুচ্ছ “আচ্ছা, বলো বাবা।” “আমি বলছিলাম, মানুষের নিজের মন নিজে বুঝতেই কত সময় লাগে। একদিন যখন মনে করতুম আমরা কেউ মণির মন পেলাম না, তখন চুপ করে সহ্য করেছি। roso vSeo-” - “না বাবা, অমন কথা বোলো না— আমিও সহ্য করেছি।” “মন তো মাটির ঢেলা নয়, কুড়িয়ে নিলেই তো নেওয়া যায় না। আমি জানতুম, মণি নিজের মন এখনো বোঝে নি; কোনো-একটা আঘাতে যেদিন বুঝবে সেদিন আর--” “ঠিক কথা, যতীন।” “সেইজন্যেই ওর ছেলেমানষিতে কোনোদিন কিছ মনে করি নি।" মাসি এ কথার কোনো উত্তর করিলেন না ; কেবল মনে মনে দীঘনিশ্বাস ফেলিলেন। কতদিন তিনি লক্ষ্য করিয়াছেন, যতীন বারান্দায় আসিয়া রাত্ত কাটাইয়াছে, ব্যষ্টির ছাঁট আসিয়াছে তব ঘরে যায় নাই। কতদিন সে মাথা ধরিয়া বিছানায় পড়িয়া; একান্ত ইচ্ছা, মণি আসিয়া মাথায় একটা হাত বলাইয়া দেয়। মণি তখন সখীদের সঙ্গে দল বধিয়া থিয়েটার দেখিতে যাইবার আয়োজন করিতেছে। তিনি যতীনকে পাখা করিতে আসিয়াছেন, সে বিরক্ত হইয়া তাঁহাকে ফিরাইয়া দিয়াছে। সেই বিরক্তির মধ্যে কত বেদনা তাহা তিনি জানিতেন। কতবার তিনি যতীনকে বলিতে চাহিয়াছেন, ‘বাবা, তুমি ঐ মেয়েটার দিকে অত বেশি মন দিয়ো না— ও একট চাহিতে শিখকে-মানুষকে একট কাঁদানো চাই। কিন্তু এ-সব কথা বলিবার নহে, বলিলেও কেহ বোঝে না। যতীনের মনে নারীদেবতার একটি পীঠস্থান ছিল, সেইখানে সে মণিকে বসাইয়াছে। সেই তীর্থক্ষেত্রে নারীর অমতপাত্র চিরদিন তাহার ভাগ্যে শান্য থাকিতে পারে, এ কথা মনে করা তাহার পক্ষে সহজ ছিল না। তাই পজা চলিতেছিল, অৰ্ঘ্য ভরিয়া উঠিতেছিল, বরলাভের আশা পরাভব মানিতেছিল না। মাসি যখন আবার ভাবিতেছিলেন যতীন ঘুমাইয়াছে এমন সময় হঠাৎ সে বলিয়া উঠিল, “আমি জানি, তুমি মনে করেছিলে, মণিকে নিয়ে আমি সখী হতে পারি নি। তাই তার উপর রাগ করতে। কিন্তু, মাসি, সখে জিনিসটা ঐ তারাগুলির মতো— সমস্ত অন্ধকার লেপে রাখে না, মাঝে মাঝে ফাঁক থেকে যায়। জীবনে কত ভুল করি, কত ভুল বুঝি, তব, তার ফাঁকে ফাঁকে কি স্বগের আলো জনলে নি। কোথা থেকে আমার মনের ভিতরটি আজ এমন আনন্দে ভরে উঠেছে!" মাসি আস্তে আস্তে যতীনের কপালে হাত বলাইয়া দিতে লাগিলেন। অন্ধকারে তাঁহার দুই চক্ষ বাহিয়া যে জল পড়িতেছিল তাহা কেহ দেখিতে পাইল না। “আমি ভাবছি মাসি, ওর অলপ বয়স, ও কী নিয়ে থাকবে।” “অলপ বয়স কিসের যতীন ? এ তো ওর ঠিক বয়স। আমরাও তো বাছা, অলপ বয়সেই দেবতাকে সংসারের দিকে ভাসিয়ে অন্তরের মধ্যে বসিয়েছি— তাতে ক্ষত্তি হয়েছে কী। তাও বলি, সখেরই বা এত বেশি দরকার কিসের।” “মাসি, মণির মনটি যেই জাগবার সময় হল অমনি আমি-" “ভাব কেন, যতীন। মন যদি জাগে তবে সেই কি কম ভাগ্য।”